
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠীতে মোঃ শফিকুল ইসলাম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড সভাপতির উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা ইমরান খন্দকার এর বিরুদ্ধে। ইমরান খন্দকার শফিকুল এর বাড়িতে ঢুকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
৭ নবেম্বর শনিবার দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত শফিকুল ইসলামকে স্বজনরা উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত শফিকুল ইসলাম সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে ইমরান খন্দকারের নেতৃত্বে মনোজ বিশ্বাস, জাকির খান, সুমন খান, সুমন আইচসহ ১২-১৪ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় পূর্বের মন্দির ভাঙা ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তারা তার ওপর হামলা চালায়। তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। ভাইকে রক্ষা করতে গেলে শফিকুলের উপর হামলা চালানো হয়। এতে শফিকুল এর মাথা কেটে যায়। তবে শফিকুলের অভিযোগ, সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের টুটুল আইচের নির্দেশনায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুটুল আইচ বলেন, শফিকুল আমাদের শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত একটি জমি ৫ আগস্টের পর দখলে নিয়েছেন। এ জমি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার পূর্ববিরোধ রয়েছে এটা ঠিক তবে, ঘটনার সময় শনিবার দুপুরে তিনি ইউনিয়নের দুর্গাকাঠী বাজার নিয়ে একটি সালিসিতে ব্যস্ত ছিলেন। হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি আরও বলেন, ইমরান খন্দকার ও শফিকুলের মধ্যে একটি সুপারি বাগান নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছেন। ওই ঘটনায় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জেনেছেন।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান খন্দকার বলেন, তিনি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি পুকুরসহ ২৭ শতাংশ জমির সুপারি বাগান তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। শনিবার বাগান থেকে সুপারি পাড়তে গেলে শফিকুল, তার ভাই সিদ্দিকসহ কয়েকজন এসে সুপারি নিয়ে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তাদের ওপর হামলা চালান। পরে আত্মরক্ষার্থে তারাও পাল্টা হামলা চালায়৷
নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, শফিকুল তাদের দলের সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি। তিনি শুনেছেন, শনিবার দুপুরে ইমরান, মনোজ, জাকিরসহ কয়েকজন শফিকুলের বাড়িতে প্রবেশ করে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। দলীয় কর্মী হিসেবে যতটুকু সম্ভব তারা শফিকুলের পাশে রয়েছেন।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা শুনেছেন। একটি পক্ষ থানায় এসেছিল। তাদের আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন
প্রতিনিধি নেছারাবাদ পিরোজপুর
মোবাইল ০১৭১৫১২২৯৫৯
Reporter Name 
















