সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় মো. আসাদুল সরদার (৫৫) নামে এজাহারভুক্ত এক আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক তনিমা মণ্ডল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী স. ম. সালাউদ্দিন জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
আসাদুল সরদার সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত সামছুর সরদারের বড় ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা সদর থানার প্রথম সাতক্ষীরা এলাকায় অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল্লাহর বসতবাড়ির পাকা প্রাচীর ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ ওঠে। এজাহারে আসাদুল সরদারসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৩ জনকে আসামি করা হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁরা বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া আসাদুল সরদারের বিরুদ্ধে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর থানায় আরও একটি মামলা রয়েছে। শফিকুল ইসলামের দায়ের করা ওই মামলায় তাঁর ছেলেদেরসহ এলাকার কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ১১৪ ধারায় দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আসাদুল সরদার এখনো জামিন নেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে, পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা ইয়াসমিন সুলতানা মুক্তা ও তাঁর বোন মনিকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগেও আসাদুলের বিরুদ্ধে অতীতে এজাহার দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, রামচন্দ্রপুর এলাকায় জমি দখলের অভিযোগে কামালনগর গ্রামের জি. এম. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আসাদুল, মেহেদী, আজহারুল ও রবিউলসহ আসামিদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালত সাজা প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আসাদুল সরদার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, মারধর, ভাঙচুর ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Reporter Name 

















