Dhaka ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি, আশার আলো দেখছেন মৎস্যচাষিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪১ Time View

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে জেলার মৎস্যচাষিদের মধ্যে। বৃষ্টির পানিতে মাছের ঘেরে অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে—এমন আশায় বুক বাঁধছেন তারা।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘেরে পানির সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, পানির গুণগত মানের অবনতি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে চিংড়ি ও সাদা মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অনেক ঘেরে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যায়, রোগবালাই দেখা দেয় এবং মাছ মারা যাওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অতীতেও অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাতক্ষীরার মৎস্য খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

 

মৎস্যচাষিদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে ঘেরে নতুন পানি প্রবেশ করায় পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা কমবে। এতে মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, রোগের প্রকোপও কমতে পারে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

 

জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানান, কয়েক মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক ঘেরে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। এ কারণে অনেকেই নতুন করে মাছের পোনা ছাড়তে সাহস পাচ্ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশাবাদী।

 

এদিকে স্বস্তির এই বৃষ্টিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন শহর ও গ্রামের মানুষও। টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবনে ফিরেছে কিছুটা স্বাভাবিকতা। কৃষকদেরও আশা, এই বৃষ্টিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ উপকৃত হবে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার কৃষি ও মৎস্য—উভয় খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি, আশার আলো দেখছেন মৎস্যচাষিরা

Update Time : ০২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে জেলার মৎস্যচাষিদের মধ্যে। বৃষ্টির পানিতে মাছের ঘেরে অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে—এমন আশায় বুক বাঁধছেন তারা।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘেরে পানির সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, পানির গুণগত মানের অবনতি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে চিংড়ি ও সাদা মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অনেক ঘেরে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যায়, রোগবালাই দেখা দেয় এবং মাছ মারা যাওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অতীতেও অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাতক্ষীরার মৎস্য খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

 

মৎস্যচাষিদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে ঘেরে নতুন পানি প্রবেশ করায় পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা কমবে। এতে মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, রোগের প্রকোপও কমতে পারে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

 

জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানান, কয়েক মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক ঘেরে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। এ কারণে অনেকেই নতুন করে মাছের পোনা ছাড়তে সাহস পাচ্ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশাবাদী।

 

এদিকে স্বস্তির এই বৃষ্টিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন শহর ও গ্রামের মানুষও। টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবনে ফিরেছে কিছুটা স্বাভাবিকতা। কৃষকদেরও আশা, এই বৃষ্টিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ উপকৃত হবে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার কৃষি ও মৎস্য—উভয় খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Spread the love