Dhaka ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ Time View

 

 

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক ডেঙ্গু রোগীকে মেঝে ও করিডোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের সব শয্যা পূর্ণ। ফলে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের করিডোর ও ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের মশারির ভেতরে রাখা হলেও একই এলাকায় সাধারণ রোগীদের অবস্থান করায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীদের স্বজনরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা আলাদা ভবনের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তারা।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও জেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় কাউখালীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন এবং বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের অ্যান্টিজেন কিট মজুত রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর সুপারি ও নারিকেল গাছ থাকায় গাছের গোড়া ও পাতায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সম্পর্কে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রেহানা আক্তার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

Update Time : ০৩:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক ডেঙ্গু রোগীকে মেঝে ও করিডোরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের সব শয্যা পূর্ণ। ফলে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের করিডোর ও ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের মশারির ভেতরে রাখা হলেও একই এলাকায় সাধারণ রোগীদের অবস্থান করায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীদের স্বজনরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা আলাদা ভবনের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তারা।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও জেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় কাউখালীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন এবং বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের অ্যান্টিজেন কিট মজুত রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর সুপারি ও নারিকেল গাছ থাকায় গাছের গোড়া ও পাতায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সম্পর্কে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রেহানা আক্তার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

Spread the love