
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ;
বেতনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলিন হতে চলেছে ২০০ বছরের পুরনো বুধহাটা বাজার। গ্রামীণ জনপদের মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন বানিজ্যিক মোকাম বুধহাটা বাজার। সপ্তাহে দুই দিন শুক্র ও সোমবার বসে এই বাজার। কোটি কোটি টাকার কেনাবেচা হয় এখানে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষজনের আশংকা নদীর তীর যে ভাবে দ্রুত ভাঙছে তাতে জরুরী ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাজারটি চলে যাবে নদীগর্ভে।
বুধহাটা বাজারের বেতনা পাড়ের এলোমেনিয়াম ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, বেতনা নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে বাজারসংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ধ্বসে নদীতে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। একই আশংকার কথা জানালেন, পাশ্ববর্তী হোটেল ব্যবসায়ী বিশু ময়রা। তিনি বলেন,০ বেতনার তীব্র ভাঙ্গনে ক্রমাম্বয়ে গ্রাস করে ফেলছে বুধহাটা বাজার।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেন না দিলে ধীরে ধীরে পুরো বাজারই নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। ব্যবসায়ী শুধু আব্দুল জলিল ও বিশু ময়রা নয় মারাত্মক ঝুকির মধ্যে বুধহাটা বাজারের কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী।
বুধহাটা বাজার কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান জুলু জানান, দুই শত বছরের পুরনো বুধহাটা বাজারটি বেতনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনের কারনে অস্তিত্য সংকটে পড়েছে। গ্রামীণ জনপদের মানুষের সাপ্তাহিক বাজার শওদা করার সবচেয়ে বড় মোকাম এই বুধহাটা বাজার। কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ বাজারে। সপ্তাহে দু”দিন শুক্র ও সোমবারে বসে বাজারটি। প্রতি বারের হাটে কয়েক কোটির টাকার পন্য কেনাবেচা হয় এই বাজারে। তবে শুক্রবারের হাটে আসে দক্ষিণাঞ্চলের গরু, ছাগল ও মহিষ। অর্থাৎ শুক্রবারের হাটে কেনাবেচার পরিবার তুলনামুলক বেশি। ফণে দ্রুত ভাঙ্গনরোধ করতে না পারলে সর্বনাশ হয়ে ব্যবসায়ীদের।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদী খনন ও অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিস্থিতি ধারণ করছে। নদীর বাহাদুরপুর অংশে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে থাকলেও সেখানে খনন না করে ভাঙনকবলিত পাড়ের দিকেই খনন কাজ করা হয়েছে। ফলে স্রোতের গতিপথ সরাসরি বাজারের দিকে চলে এসেছে। ফলে বেতনার প্রবল স্রোতের টানে গত কয়েকদিনে বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় নৌযান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি খেয়া নৌকা ঘাটে ভিড়তে গেলে হঠাৎ বড় অংশের পাড় ধসে পড়ে। এতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত শিশুসহ সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার পর থেকে খেয়া পারাপার নিয়ে স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, কয়েকদিন আগে বুধহাটা বাজারে বেতনার ভাঙ্গন এলাকাটি পরিদর্শ করে এসেছেন। বিষয়টি খুবই জরুরী। তাৎক্ষনিক ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারনে এখনো মেরামতের কাজ শুরু হয়নি। তার পরও আরো একবার তাগিত দিয়ে দু”একদিনের মধ্যে সংস্কার কাজ করার নির্দেশ হবে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড – ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া জানান, বেতনা খননের পর নদীর নাব্যতা বেড়েছে। বুধহাটা এলাকায় ভাঙ্গনের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে টেকসই সংস্কার করতে হলে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নিতে হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাটি আপাতত মেরামত করা হবে শীঘ্রই।
আহসানউল্লাহ মামুন 



















