Dhaka ০৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুন্দরবনে বনদস্যুদের আতঙ্কে জেলেরা, নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, মিশিগানে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১২২ Time View

0-0x0-1-0#

 

 

প্রতিনিধি নেছারাবাদ পিরোজপুর ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিস। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাশের একটি লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯০৯ সালে মরহুম হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রায় ১৬ লাখ টাকা থাকার পরও মাত্র ৩২ হাজার ৭২৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ক্লাস করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ফান্ডে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কাছে চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। এত দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে, তা তিনি ভাবেননি।

অবৈধভাবে পাশের লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, “ওটাও আমাদের মিটার।” তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তহবিলে অর্থ থাকার পরও এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখা দায়িত্বে অবহেলার শামিল। এ ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক এড়িয়ে যেতে পারেন না বলেও তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উজিরপুর শাখায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৪ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জানে আলম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী এক থেকে দুই মাসের বেশি বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের মোট ৩২ হাজার ৭২৯ টাকা বিল বকেয়া ছিল। একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বলে দিয়েছি, যাতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।”

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

Update Time : ১২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

 

প্রতিনিধি নেছারাবাদ পিরোজপুর ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিস। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাশের একটি লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯০৯ সালে মরহুম হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রায় ১৬ লাখ টাকা থাকার পরও মাত্র ৩২ হাজার ৭২৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ক্লাস করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ফান্ডে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কাছে চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। এত দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে, তা তিনি ভাবেননি।

অবৈধভাবে পাশের লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, “ওটাও আমাদের মিটার।” তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তহবিলে অর্থ থাকার পরও এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখা দায়িত্বে অবহেলার শামিল। এ ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক এড়িয়ে যেতে পারেন না বলেও তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উজিরপুর শাখায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৪ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জানে আলম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী এক থেকে দুই মাসের বেশি বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের মোট ৩২ হাজার ৭২৯ টাকা বিল বকেয়া ছিল। একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বলে দিয়েছি, যাতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।”

Spread the love