Dhaka ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি, আশার আলো দেখছেন মৎস্যচাষিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৬১ Time View

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে জেলার মৎস্যচাষিদের মধ্যে। বৃষ্টির পানিতে মাছের ঘেরে অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে—এমন আশায় বুক বাঁধছেন তারা।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘেরে পানির সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, পানির গুণগত মানের অবনতি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে চিংড়ি ও সাদা মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অনেক ঘেরে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যায়, রোগবালাই দেখা দেয় এবং মাছ মারা যাওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অতীতেও অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাতক্ষীরার মৎস্য খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

 

মৎস্যচাষিদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে ঘেরে নতুন পানি প্রবেশ করায় পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা কমবে। এতে মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, রোগের প্রকোপও কমতে পারে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

 

জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানান, কয়েক মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক ঘেরে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। এ কারণে অনেকেই নতুন করে মাছের পোনা ছাড়তে সাহস পাচ্ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশাবাদী।

 

এদিকে স্বস্তির এই বৃষ্টিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন শহর ও গ্রামের মানুষও। টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবনে ফিরেছে কিছুটা স্বাভাবিকতা। কৃষকদেরও আশা, এই বৃষ্টিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ উপকৃত হবে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার কৃষি ও মৎস্য—উভয় খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি, আশার আলো দেখছেন মৎস্যচাষিরা

Update Time : ০২:৩১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে সাতক্ষীরায় স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে জেলার মৎস্যচাষিদের মধ্যে। বৃষ্টির পানিতে মাছের ঘেরে অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে—এমন আশায় বুক বাঁধছেন তারা।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘেরে পানির সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, পানির গুণগত মানের অবনতি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে চিংড়ি ও সাদা মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অনেক ঘেরে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যায়, রোগবালাই দেখা দেয় এবং মাছ মারা যাওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অতীতেও অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাতক্ষীরার মৎস্য খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

 

মৎস্যচাষিদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে ঘেরে নতুন পানি প্রবেশ করায় পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা কমবে। এতে মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, রোগের প্রকোপও কমতে পারে। ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

 

জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানান, কয়েক মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক ঘেরে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। এ কারণে অনেকেই নতুন করে মাছের পোনা ছাড়তে সাহস পাচ্ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশাবাদী।

 

এদিকে স্বস্তির এই বৃষ্টিতে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন শহর ও গ্রামের মানুষও। টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবনে ফিরেছে কিছুটা স্বাভাবিকতা। কৃষকদেরও আশা, এই বৃষ্টিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ উপকৃত হবে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার কৃষি ও মৎস্য—উভয় খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Spread the love