Dhaka ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি  গাছ বিক্রি !  ধর্মান্তরের আশ্বাসে প্রেম, বিয়ের প্রলোভনে ধ”র্ষ’ণের অভিযোগে বরিশালে যুবক গ্রেপ্তার নান্দুহার-ইলুহার ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশনের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন আব্দুল অদুদ তালুকদার  কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান: তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা প্রাইজ বন্ডের ১২৪তম ড্র অনুষ্ঠিত: প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা, উৎসে কর কাটা হবে ২০ শতাংশ  চকরিয়ার জমজম হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ বানারীপাড়ায় অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার কাউখালীর কঁচা নদীতে নৌ পুলিশের অভিযানে ৭ হাজার মিটার অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার, আগুনে ধ্বংস

বিয়ের নামে নির্মম প্রতারণা: ডিভোর্সের পরও অন্ধকারে রেখে তরুণীকে ভোগের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৪০৬ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া:

​আগের স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন এক অসহায় তরুণী। কিন্তু সেখানে বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো এক নতুন প্রতারণার জালে ফেঁসে আজ তাঁর জীবন বিপন্ন। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেওয়ার সূত্র ধরেই ওই তরুণীর পরিচয় হয় বানারীপাড়ার গাভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খানমের ছেলে তানভির আহম্মেদ রানা ওরফে রাসেদের সাথে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আগের সংসার হারিয়ে দিশেহারা তরুণীটি রাসেদের সহানুভূতি ও ভালোবাসার ফাঁদে পা দেন। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে রাসেদ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদুল ইসলাম নামের এক কাজীর মাধ্যমে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জানা গেছে, ওই হোটেলটির মালিক বানারীপাড়ারই বাসিন্দা রাসেল নামের এক ব্যক্তি।

​সম্প্রতি ওই তরুণী ও রাসেদের বিয়ের কাবিননামা সামনে এলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কাবিননামায় রাসেদ নিজেকে ‘অবিবাহিত’ বলে উল্লেখ করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাসেদের ঘরে আগে থেকেই স্ত্রী রয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম থেকেই পুরো বিয়ের বিষয়টি সাজানো হয়েছিল চরম মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে।

​বিয়ের পর নতুন স্ত্রীকে ঘরে তুলতে বাধা হয়ে দাঁড়ান রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। মায়ের দোহাই দিয়ে এবং চাকরি খোঁজার অজুহাতে রাসেদ কৌশলে ওই তরুণীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। সরল বিশ্বাসে সুখের আশায় তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি ছোট চাকরি নেন। রাসেদ ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দিলেও, সেই বাসার ভাড়া মেয়েটি নিজেই পরিশোধ করতেন। রাসেদ মাঝে মাঝে ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁর সাথে সময় কাটাত। এভাবে দীর্ঘ ৩টি বছর কেটে গেলেও রাসেদ তাকে নিজের বাড়িতে তুলে নেয়নি। ছুটির দিনে তরুণীটি এলাকায় আসলে তাঁরা বিভিন্ন হোটেল ও দর্শনীয় স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতেন।

​সম্প্রতি ওই তরুণীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়, যখন তিনি আকস্মিক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পান। কোনো কারণ ছাড়াই এই ডিভোর্স দেওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। তবে সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, ডিভোর্স লেটারে যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরেও রাসেদ একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওই তরুণীর সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রাত কাটিয়েছেন এবং শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তরুণীটি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাঁকে গোপনে তালাক দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে তালাক দেওয়ার পরেও একজন নারীকে অন্ধকারে রেখে তাঁর সাথে এমন আচরণ করা চরম অপরাধ ও প্রতারণা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​সন্তানের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে খোদ মায়ের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন নারী এবং সমাজের আলো ছড়ানোর কারিগর (প্রধান শিক্ষিকা), তাঁর একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— ‘ডিভোর্সের পর কাজীর কথা মতো তিন মাস ছেলে-মেয়েকে না বোঝানোর জন্য ছেলে মেয়ের সাথে এমনটা করেছে।’ একজন প্রধান শিক্ষিকার মুখে এমন নীতিবিগর্হিত মন্তব্য পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। নিজের অধিকার ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি বানারীপাড়ায় রাসেদের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে চরম হেনস্থা ও অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সমাজের প্রভাবশালী ও মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষিকার পরিবারের প্রভাবের কারণে কোথাও কোনো সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেন না।

​বিয়ের নামে এই নির্মম জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ডিভোর্সের পর এক নারীকে অন্ধকূপে রেখে ভোগ করার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় সড়কের দুই ধারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব

বিয়ের নামে নির্মম প্রতারণা: ডিভোর্সের পরও অন্ধকারে রেখে তরুণীকে ভোগের অভিযোগ

Update Time : ০৬:২৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া:

​আগের স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশায় ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন এক অসহায় তরুণী। কিন্তু সেখানে বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো এক নতুন প্রতারণার জালে ফেঁসে আজ তাঁর জীবন বিপন্ন। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেওয়ার সূত্র ধরেই ওই তরুণীর পরিচয় হয় বানারীপাড়ার গাভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খানমের ছেলে তানভির আহম্মেদ রানা ওরফে রাসেদের সাথে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আগের সংসার হারিয়ে দিশেহারা তরুণীটি রাসেদের সহানুভূতি ও ভালোবাসার ফাঁদে পা দেন। গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে রাসেদ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটার একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জাহিদুল ইসলাম নামের এক কাজীর মাধ্যমে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জানা গেছে, ওই হোটেলটির মালিক বানারীপাড়ারই বাসিন্দা রাসেল নামের এক ব্যক্তি।

​সম্প্রতি ওই তরুণী ও রাসেদের বিয়ের কাবিননামা সামনে এলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। কাবিননামায় রাসেদ নিজেকে ‘অবিবাহিত’ বলে উল্লেখ করলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাসেদের ঘরে আগে থেকেই স্ত্রী রয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম থেকেই পুরো বিয়ের বিষয়টি সাজানো হয়েছিল চরম মিথ্যা ও জালিয়াতির ওপর ভিত্তি করে।

​বিয়ের পর নতুন স্ত্রীকে ঘরে তুলতে বাধা হয়ে দাঁড়ান রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। মায়ের দোহাই দিয়ে এবং চাকরি খোঁজার অজুহাতে রাসেদ কৌশলে ওই তরুণীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। সরল বিশ্বাসে সুখের আশায় তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি ছোট চাকরি নেন। রাসেদ ঢাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দিলেও, সেই বাসার ভাড়া মেয়েটি নিজেই পরিশোধ করতেন। রাসেদ মাঝে মাঝে ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁর সাথে সময় কাটাত। এভাবে দীর্ঘ ৩টি বছর কেটে গেলেও রাসেদ তাকে নিজের বাড়িতে তুলে নেয়নি। ছুটির দিনে তরুণীটি এলাকায় আসলে তাঁরা বিভিন্ন হোটেল ও দর্শনীয় স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতেন।

​সম্প্রতি ওই তরুণীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়, যখন তিনি আকস্মিক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পান। কোনো কারণ ছাড়াই এই ডিভোর্স দেওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। তবে সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, ডিভোর্স লেটারে যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরেও রাসেদ একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওই তরুণীর সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে রাত কাটিয়েছেন এবং শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তরুণীটি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাঁকে গোপনে তালাক দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে তালাক দেওয়ার পরেও একজন নারীকে অন্ধকারে রেখে তাঁর সাথে এমন আচরণ করা চরম অপরাধ ও প্রতারণা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​সন্তানের এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে খোদ মায়ের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রাসেদের মা, যিনি নিজে একজন নারী এবং সমাজের আলো ছড়ানোর কারিগর (প্রধান শিক্ষিকা), তাঁর একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— ‘ডিভোর্সের পর কাজীর কথা মতো তিন মাস ছেলে-মেয়েকে না বোঝানোর জন্য ছেলে মেয়ের সাথে এমনটা করেছে।’ একজন প্রধান শিক্ষিকার মুখে এমন নীতিবিগর্হিত মন্তব্য পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

​প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। নিজের অধিকার ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি বানারীপাড়ায় রাসেদের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে তাঁকে চরম হেনস্থা ও অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সমাজের প্রভাবশালী ও মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষিকার পরিবারের প্রভাবের কারণে কোথাও কোনো সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছেন না।

​বিয়ের নামে এই নির্মম জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ডিভোর্সের পর এক নারীকে অন্ধকূপে রেখে ভোগ করার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

Spread the love