Dhaka ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুন্দরবনে বনদস্যুদের আতঙ্কে জেলেরা, নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, মিশিগানে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

সমাধান হওয়া ঘটনাকে ইস্যু করে মানববন্ধন, ‘অপপ্রচার বন্ধের’ দাবি প্রবীণ শিক্ষকদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২৮৭ Time View

 

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই প্রবীণ শিক্ষক মো. ফজলুল হক ও মো. শাহ আলম বাহাদুর ওই কর্মসূচির বিরোধিতা করে এটিকে একটি সামান্য ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি স্বরূপকাঠি হোমিওপ্যাথিক কলেজের মাসিক সভায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম বাহাদুর ও মো. ফজলুল হকের সঙ্গে ইউএনও অমিত দত্তের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন।

কিন্তু সমাধান হয়ে যাওয়া সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষক।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম বাহাদুর বলেন, ইউএনও’র সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। সভায় সৃষ্ট সামান্য ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মিটে গেছে। কিন্তু একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “ফেসবুকে দেখে জানতে পারি, ইউএনও অমিত দত্ত নাকি আমার ও ফজলুল হক স্যারের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং তাঁর অপসারণ দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি হতবাক হয়েছি।” তিনি এ ধরনের অপপ্রচার ও ঘোষিত কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, “যে বিষয়টি আমরা নিজেরাই সমাধান করেছি, সেটিকে ইস্যু বানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” তিনি ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “হোমিওপ্যাথিক কলেজের একটি সভায় শাহ আলম স্যার আমার পাশের চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি সামনের সারিতে বসা এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে ডাকছিলেন। সভা শেষ হওয়ার পর জানতে পারি, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে স্যারদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি শুনে আমিও বিস্মিত হয়েছি।”

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা বিষয়টি আর না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

সমাধান হওয়া ঘটনাকে ইস্যু করে মানববন্ধন, ‘অপপ্রচার বন্ধের’ দাবি প্রবীণ শিক্ষকদের

Update Time : ০১:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

 

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই প্রবীণ শিক্ষক মো. ফজলুল হক ও মো. শাহ আলম বাহাদুর ওই কর্মসূচির বিরোধিতা করে এটিকে একটি সামান্য ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি স্বরূপকাঠি হোমিওপ্যাথিক কলেজের মাসিক সভায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম বাহাদুর ও মো. ফজলুল হকের সঙ্গে ইউএনও অমিত দত্তের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন।

কিন্তু সমাধান হয়ে যাওয়া সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষক।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম বাহাদুর বলেন, ইউএনও’র সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। সভায় সৃষ্ট সামান্য ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মিটে গেছে। কিন্তু একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “ফেসবুকে দেখে জানতে পারি, ইউএনও অমিত দত্ত নাকি আমার ও ফজলুল হক স্যারের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং তাঁর অপসারণ দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি হতবাক হয়েছি।” তিনি এ ধরনের অপপ্রচার ও ঘোষিত কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, “যে বিষয়টি আমরা নিজেরাই সমাধান করেছি, সেটিকে ইস্যু বানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” তিনি ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “হোমিওপ্যাথিক কলেজের একটি সভায় শাহ আলম স্যার আমার পাশের চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি সামনের সারিতে বসা এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে ডাকছিলেন। সভা শেষ হওয়ার পর জানতে পারি, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে স্যারদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি শুনে আমিও বিস্মিত হয়েছি।”

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা বিষয়টি আর না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

Spread the love