Dhaka ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

গুয়ারেখা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয়ের অভিযোগ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ২৫২ Time View

 

প্রতিনিধি,নেছারাবাদ ;

 

পিরোজপুরে নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাজীর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং একজন চেয়ারম্যান হিসাবে তার দায়িত্বে পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় তার ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে দিনের পর দিন পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তার আপন ভাই মেম্বার লাভলু গাজি। এতে করে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয় সহ ইউনিয়নবাসী প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শুধু নাগরিক সুবিধা নয়, রয়েছে পরিষদে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা অপচয়ের অভিযোগ। চেয়ারম্যান ক্ষমতা বলে তার ভাই লাভলু গাজিকে দিয়ে তার নিজের বাড়ির সামনে ৫০ ফুটের মধ্যে দুটি ব্রীজ নির্মান করেছেন এডিবি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে। যে কারনে ইতিমধ্যে জনগণের সমালোচনার মুখে পড়েছে চেয়ারম্যান।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলে, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গুয়ারেখা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে যার সত্যতা দেখা যায়, উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। ১নং ওয়ার্ডের ভরতকাঠি সুইজগেট সংলগ্ন খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৬নং ওয়ার্ডে রোঙ্গাকাঠি ব্রিজ থেকে গাববড়ি বাজার পর্যন্ত রাস্তার মাটির কাজ ও ইট সলিং সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ভরতকাঠি হামেদ ফকিরের বাড়ি থেকে সাইক্লোন সেন্টার পর্যন্ত, পাটিকেল বাড়ি মোল্লা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত এবং পরিমল মিস্ত্রি বাড়ি থেকে আশ্রম পর্যন্ত সড়কের মাটি ও ইট সলিং কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হচ্ছে এবং নিজস্ব লোকজনকে প্রাধান্য দিয়ে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত চাঁদ কাঠির অনেক জেলরা চাল নেয়নি পরিষদ থেকে জানিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। অথচ সরকারি ভাবে জেলেদের চাল কম দেয়া হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সদস্য জানান, সরকারি বরাদ্দ ভাতা ৩৬০০ টাকা ছাড়া পরিষদ থেকে কোন টাকা দেয়া হয় না। তারা কেবল ঈদ কোরবানির সময় ৫ হাজার টাকা ভাতা পান। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ৪৪০০ টাকা পরিষদ থেকে ভাতা পাওয়ার কথা।

এ বিষয়ে পরিষদের সচিব তরিকুল ইসলাম বলেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদেই সদস্যদের নিয়মিত মাসিক ভাতা দেওয়া হয় না; মাঝে মাঝে সামর্থ্য অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হয়, যেমন ঈদের সময়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরিষদে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লাভলু মেম্বার জানাব, চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে দুটি ব্রিজ নির্মাণ করার কথা শিকার করে বলেন, তার চাচাতো ভাই আলতাফ মেম্বারের বাধার কারণে সেখানে দুটি ব্রিজ নির্মান করতে হয়েছে। দুই বাড়ির মাঝখানে ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তার বাধার কারণে তার বাড়ির সামনে নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভরতকাঠি সুইজগেট সংলগ্ন খালের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় পূর্বে কাজ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে বরাদ্দ আসলে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। রোঙ্গাকাঠি থেকে গাববড়ি সড়কের কাজের সময় বৃষ্টি ও যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, টি আর ও কাবিখা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিলে একলাকে ৭৪ হাজার টাকা থাকে, যা দিয়ে সীমিত কাজ করা সম্ভব। এছাড়া জেলের সংখ্যা বেশি হলেও চাল কম বরাদ্দ পাওয়ায় সমন্বয় করে বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাজীর এলাকায় না থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি তবে ভাই বলেছেন মাঝে মাঝে এলাকায় আসেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

গুয়ারেখা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয়ের অভিযোগ।

Update Time : ১২:১৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

 

প্রতিনিধি,নেছারাবাদ ;

 

পিরোজপুরে নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাজীর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং একজন চেয়ারম্যান হিসাবে তার দায়িত্বে পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় তার ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে দিনের পর দিন পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তার আপন ভাই মেম্বার লাভলু গাজি। এতে করে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অপচয় সহ ইউনিয়নবাসী প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শুধু নাগরিক সুবিধা নয়, রয়েছে পরিষদে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা অপচয়ের অভিযোগ। চেয়ারম্যান ক্ষমতা বলে তার ভাই লাভলু গাজিকে দিয়ে তার নিজের বাড়ির সামনে ৫০ ফুটের মধ্যে দুটি ব্রীজ নির্মান করেছেন এডিবি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে। যে কারনে ইতিমধ্যে জনগণের সমালোচনার মুখে পড়েছে চেয়ারম্যান।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলে, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গুয়ারেখা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে যার সত্যতা দেখা যায়, উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। ১নং ওয়ার্ডের ভরতকাঠি সুইজগেট সংলগ্ন খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৬নং ওয়ার্ডে রোঙ্গাকাঠি ব্রিজ থেকে গাববড়ি বাজার পর্যন্ত রাস্তার মাটির কাজ ও ইট সলিং সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ভরতকাঠি হামেদ ফকিরের বাড়ি থেকে সাইক্লোন সেন্টার পর্যন্ত, পাটিকেল বাড়ি মোল্লা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত এবং পরিমল মিস্ত্রি বাড়ি থেকে আশ্রম পর্যন্ত সড়কের মাটি ও ইট সলিং কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া হচ্ছে এবং নিজস্ব লোকজনকে প্রাধান্য দিয়ে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত চাঁদ কাঠির অনেক জেলরা চাল নেয়নি পরিষদ থেকে জানিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। অথচ সরকারি ভাবে জেলেদের চাল কম দেয়া হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সদস্য জানান, সরকারি বরাদ্দ ভাতা ৩৬০০ টাকা ছাড়া পরিষদ থেকে কোন টাকা দেয়া হয় না। তারা কেবল ঈদ কোরবানির সময় ৫ হাজার টাকা ভাতা পান। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ৪৪০০ টাকা পরিষদ থেকে ভাতা পাওয়ার কথা।

এ বিষয়ে পরিষদের সচিব তরিকুল ইসলাম বলেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদেই সদস্যদের নিয়মিত মাসিক ভাতা দেওয়া হয় না; মাঝে মাঝে সামর্থ্য অনুযায়ী ভাতা দেওয়া হয়, যেমন ঈদের সময়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরিষদে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লাভলু মেম্বার জানাব, চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে দুটি ব্রিজ নির্মাণ করার কথা শিকার করে বলেন, তার চাচাতো ভাই আলতাফ মেম্বারের বাধার কারণে সেখানে দুটি ব্রিজ নির্মান করতে হয়েছে। দুই বাড়ির মাঝখানে ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তার বাধার কারণে তার বাড়ির সামনে নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভরতকাঠি সুইজগেট সংলগ্ন খালের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় পূর্বে কাজ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে বরাদ্দ আসলে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। রোঙ্গাকাঠি থেকে গাববড়ি সড়কের কাজের সময় বৃষ্টি ও যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, টি আর ও কাবিখা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিলে একলাকে ৭৪ হাজার টাকা থাকে, যা দিয়ে সীমিত কাজ করা সম্ভব। এছাড়া জেলের সংখ্যা বেশি হলেও চাল কম বরাদ্দ পাওয়ায় সমন্বয় করে বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাজীর এলাকায় না থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি তবে ভাই বলেছেন মাঝে মাঝে এলাকায় আসেন।

Spread the love