
কাউখালী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে সকল অভিভাবককে অবহিত না করে প্রধান শিক্ষকদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি গঠনের জন্য ক্লাস্টার পর্যায়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে যথাযথ প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে মোট ১২ জন সদস্য থাকার কথা। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্য থেকে চারজন—দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী—সদস্য থাকার বিধান রয়েছে। অভিভাবক সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের ন্যূনতম এসএসসি পাসের শর্ত রয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, কমিটি গঠনের আগে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো উচিত। কিন্তু অনেক বিদ্যালয়ে তা না করে নির্দিষ্ট কয়েকজন অভিভাবককে জানানো হয়েছে। পরে তাদের মধ্য থেকেই সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক বলেন, “আমরা নিয়মিত সন্তানদের বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করি। অথচ এসএমসি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের অনেককেই জানানো হয়নি। কমিটিতে কারা থাকবেন কিংবা কখন নির্বাচন হবে—এসব বিষয় পরে জানতে পেরেছি। নিয়ম মেনে সবাইকে জানানো হলে যোগ্য অভিভাবকরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন।”
অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সমানভাবে তথ্য জানাতে হবে এবং সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও পরিচালনা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করাই এসএমসি গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ সত্য হলে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে এসএমসির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কমার পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা ও নির্ধারিত তফসিল যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সব অভিভাবককে অবহিত করা এবং নির্ধারিত নিয়মে কমিটি গঠন করা প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব। কোনো বিদ্যালয়ে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এসএমসি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা। তাই কোনোভাবেই কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।”
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেকোনো কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসএমসি গঠনে কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্যই এসএমসি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সবার অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
Reporter Name 






















