
সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক :
অপরিচিত ব্যক্তির কাছে ঠিকানা জানতে চাওয়া, বাসা ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব কিংবা সাহায্যের আবেদন—এমন স্বাভাবিক ঘটনাকে পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পাততে পারে অপরাধী চক্র। স্কোপোলামিন নামের রাসায়নিককে ঘিরে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত একটি বিষয় নিয়ে দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে প্রকৃত তথ্য জানা এবং সতর্ক থাকাই জরুরি।
স্কোপোলামিন একটি রাসায়নিক উপাদান, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট প্রয়োজনে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এর অপব্যবহার গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শরীরে এর প্রভাব পড়লে বিভ্রান্তি, স্মৃতিবিভ্রাট ও সচেতনতার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে এ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
অপরাধীরা সহায়তা চাওয়ার অভিনয় করে কিংবা বাসা ভাড়া নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কেউ ঠিকানা জানতে চেয়ে কাগজ বা মোবাইলের বার্তা দেখাতে পারে, আবার কেউ ওষুধের নাম জানতে চাওয়া কিংবা অন্য কোনো অজুহাতে কাছে আসতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে অপরিচিত ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এ ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। দোকানপাট, ব্যাংক, আর্থিক লেনদেন হয় এমন প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অসতর্কতার সুযোগ নিতে পারে অপরাধীরা। তবে শুধু কাগজ, কাপড় কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের গন্ধ শুঁকলেই একজন মানুষ অন্যের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যান এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্কোপোলামিন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জব্দ করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষায় স্কোপোলামিনসহ কয়েকটি উপাদান পাওয়া যায়। ঘটনাটি দেশে এ রাসায়নিকের অবৈধ ব্যবহার ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। তবে এ ধরনের অপরাধের বিস্তার ও প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অপরিচিত কেউ বাসা ভাড়া নিতে এলে পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করে ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেবেন না। সম্ভব হলে পরিবারের অন্য সদস্য বা প্রতিবেশীকে সঙ্গে রাখুন। অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কেউ অস্বাভাবিকভাবে কাছে আসতে চাইলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে সেখান থেকে সরে যান।
বাস, লঞ্চসহ গণপরিবহনে চলাচলের সময়ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যাত্রাপথে ঘুমিয়ে পড়লে ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখুন। অপরিচিত কারও কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত কিছু গ্রহণ কিংবা অস্বাভাবিক আচরণের শিকার হলে সতর্ক থাকুন।
কেউ হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লে, অস্বাভাবিক আচরণ করলে কিংবা সচেতনতা হারানোর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে নিকটস্থ থানায় খবর দিন অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।
সচেতনতা, পরিচয় যাচাই এবং সময়মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য জানানোই সম্ভাব্য প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
Reporter Name 
















