নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন অভিযুক্ত মো. শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বরূপকাঠী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সাধারণ কর্মী দাবি করে বলেন, একটি মহল তাঁকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মালিকানা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁর দাবি, স্থানীয় কেউ ওই জমি মন্দিরের নামে থাকার পক্ষে কোনো কাগজপত্র বা দলিল দেখাতে পারেননি। তিনি সমীর রঞ্জন আইচের কাছ থেকে দলিলমূলে জমি কিনেছেন এবং পিরোজপুরের বিজ্ঞ জজ আদালতের ডিক্রি পেয়ে আইন অনুযায়ী নিজের নামে জমিটি রেকর্ডভুক্ত করেছেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন।
শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর ভোগদখলীয় জমি থেকে জোরপূর্বক ফসল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি পিরোজপুরের আদালতে এমপি ৩৩৯/২৫ ও সি আর ৩৮/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ টুটুল আইচের নেতৃত্বে জমিতে শীতলা মন্দিরের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে যথাযথ আইনি সহযোগিতা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শফিকুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করে টুটুল আইচ বলেন, সমীর রঞ্জন আইচ তাঁদের বংশের লোক। শফিকুল ইসলাম যদি সমীর রঞ্জন আইচের কাছ থেকে মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত জমি কিনে থাকেন, তাহলে রেজিস্ট্রিকৃত উপযুক্ত দলিল দেখালে তাঁরা ওই জমির ওপর কোনো দাবি রাখবেন না।
টুটুল আইচ আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা শফিকুল ইসলামকে হুমকি দিচ্ছেন না; বরং শফিকুল ইসলামই তাঁদের ধারাবাহিকভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
Reporter Name 
















