Dhaka ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুন্দরবনে বনদস্যুদের আতঙ্কে জেলেরা, নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, মিশিগানে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

কাউখালীর হোটেলগুলোতে বাসি-পচা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ Time View

 

 

 

কাউখালী প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অবস্থিত ভাতের হোটেলগুলোতে নিম্নমানের, বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হলেও কার্যকর তদারকির অভাবে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ খাবার হোটেলের রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অপরিচ্ছন্ন। অনেক ক্ষেত্রে রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা হয়। ফলে মশা-মাছি, ধুলোবালি ও বিভিন্ন জীবাণু খাবারে মিশে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

এছাড়া একদিনের উদ্বৃত্ত মাছ, মাংস ও সবজি পরবর্তী দিনের রান্নার সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে খাবারের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রায়ই নিম্নমানের ও বাসি খাবার পরিবেশন করায় তারা গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল আলম বখতিয়ার বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত বা বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শিগগিরই হাট-বাজারগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অস্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, “বাসি, পচা ও খোলা খাবার গ্রহণের ফলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এসব খাবার লিভার ও পাকস্থলীরও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার হোটেলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং টাটকা ও নিরাপদ খাবার পরিবেশন অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

কাউখালীর হোটেলগুলোতে বাসি-পচা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

Update Time : ০১:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

 

কাউখালী প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অবস্থিত ভাতের হোটেলগুলোতে নিম্নমানের, বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হলেও কার্যকর তদারকির অভাবে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ খাবার হোটেলের রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অপরিচ্ছন্ন। অনেক ক্ষেত্রে রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা হয়। ফলে মশা-মাছি, ধুলোবালি ও বিভিন্ন জীবাণু খাবারে মিশে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

এছাড়া একদিনের উদ্বৃত্ত মাছ, মাংস ও সবজি পরবর্তী দিনের রান্নার সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে খাবারের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রায়ই নিম্নমানের ও বাসি খাবার পরিবেশন করায় তারা গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল আলম বখতিয়ার বলেন, “পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত বা বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শিগগিরই হাট-বাজারগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

অস্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, “বাসি, পচা ও খোলা খাবার গ্রহণের ফলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এসব খাবার লিভার ও পাকস্থলীরও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার হোটেলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং টাটকা ও নিরাপদ খাবার পরিবেশন অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Spread the love