সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শিশুদের যৌন শোষণ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও ক্ষতিকর অভ্যাস প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) এর উদ্যোগে ফ্রি অ্যা গার্ল নেদারল্যান্ডস ও জিম্যান’র সহযোগিতায় ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড সাইকোসোসাল ডেভেলপমেন্ট অব গার্লস ফ্রম অ্যাবুসিভ অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেটিভ সিচুয়েশন’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
লাবসা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা। এরিয়া ম্যানেজার কৃষ্ণা রানী বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এস এম আহসান উল্লাহ সরকার।
সভায় শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন লাবসা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিশ্বনাথ মন্ডল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনিরুজ্জামান, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি কাজী মনিরুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলী হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজিবুর রহমান টুটুল, মহিলা ইউপি সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম মিষ্টি ও ফাহমিদা জামান মিতু, সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের, লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান এবং ইমাম আব্দুল হাকিমসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও অন্যান্য ক্ষতিকর অভ্যাস প্রতিরোধে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব কু-অভ্যাস থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে।
তারা বলেন, শিশু সুরক্ষার শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। শিশুদের তাদের শরীর সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি ভালো স্পর্শ ও মন্দ স্পর্শের বিষয়ে বয়স উপযোগী ধারণা দিতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনকারী দূরের কেউ নয়, বরং শিশুর পরিচিত ও কাছের মানুষ হয়ে থাকে।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিতভাবে সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এই প্রতিরোধের যাত্রা শুরু করতে হবে নিজ নিজ পরিবার থেকেই।
Reporter Name 



















