
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ ;
বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে তেলের ঘাটতি অস্বীকার করা হলেও জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে মিলছে না পর্যাপ্ত তেল। এই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কালোবাজারি চক্র। পাম্প মালিকদের একাংশের যোগসাজশে খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের চালতেতলা ও সুলতানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা চড়া দামে তেল বিক্রি করছেন। জেলার তালা উপজেলার খলিশখালী, মুড়াগাছা, সুজননগর; কলারোয়ার চন্দনপুর, জয়নগর ও কেরালকাতায় খোলা বাজারে তেলের দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কালিগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে নলতা, বিষ্ণুপুর ও রতনপুর বাজারে প্রতি লিটার তেল ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতি কালিগঞ্জের পারুলগাছা এলাকায় ‘আল মদিনা ট্রেডার্স’ থেকে ৫৮০০ লিটার অবৈধ তেল জব্দ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া আশাশুনির মহিষকুড়, হাড়িভাঙা এবং শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ও বংশীপুর বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, খুলনা ডিপো থেকে তেল আসার পর কিছু পাম্প মালিক ড্রাম ভরে তেল সরিয়ে ফেলছেন। পাম্পে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তলে তলে ১৮০-১৯০ টাকা দরে সেই তেল চলে যাচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। আবার কিছু ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালক পাম্প থেকে ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিয়ে বাইরে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন।
কালিগঞ্জের মোটরসাইকেল চালক আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাম্পে তেলের লিটার ১২০ টাকা হলেও গ্রামে কিনতে হচ্ছে ৩২০ টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে পাম্প থেকে ড্রাম ড্রাম তেল আনছে। প্রশাসন যদি মোড়ে মোড়ে অভিযান চালাত, তবে এই নৈরাজ্য বন্ধ হতো।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্যামনগরের এক খুচরা বিক্রেতা স্বীকার করেন, তাঁরা ডিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে তেল কিনছেন বলেই ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনগুলো মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, “তেল সংকটের সুযোগ নিয়ে যারা কালোবাজারি করছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। প্রশাসনের ‘নতজানু’ অভিযানে এদের দমন করা যাবে না। কঠোর জেল-জরিমানা নিশ্চিত করলেই কেবল এই সংকট থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।”
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ পরিবহন চালক ও কৃষকরা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জেলার কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
Reporter Name 




















