সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জলাবদ্ধতা নিরসনে সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজ। তবে বর্ষা মৌসুমে একযোগে একাধিক সড়ক খুঁড়ে কাজ শুরু করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। কোথাও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কোথাও ভেঙে পড়ছে বসতবাড়ির প্রাচীর ও ঘর। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমন্বয়হীন পরিকল্পনা, সময়মতো কাজ না করা এবং নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্পই এখন নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো সাতক্ষীরা পৌরসভার অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা নিরসনে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু ভরা বর্ষায় একসঙ্গে একাধিক সড়ক খনন করে কাজ শুরু করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়কে খনন করা মাটি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কোথাও জমেছে কাদা, আবার কোথাও খনন করা ড্রেন পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ভিটেবাড়িতে যাতায়াতের জন্য অনেক বাসিন্দাকে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করতে হয়েছে। কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর, গেট ও রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ চললেও বিষয়টি দেখভালের জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। গত আড়াই থেকে তিন বছর ধরে বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক খননের কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণের নকশা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উঁচু করা হলেও ড্রেনের পুরোনো নকশায় সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে কোথাও কোথাও নির্মাণাধীন ড্রেন মূল সড়কের তুলনায় নিচু হয়ে পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে কাঙ্ক্ষিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বর্তমানে এসব কাজ মরণফাঁদ বলা যায়। সন্ধ্যার পর কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। রাস্তা খুঁড়ে রেখে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাজের গতি নেই।”
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ বলেন, “কাজ চলছিল ঠিকই, কিন্তু অতিবৃষ্টির ফলে উন্নয়নকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের জন্য চিঠি দিয়েছি। সে অনুযায়ী ঠিকাদার দ্রুত কাজ শুরু করেছে। ৯টি ওয়ার্ডেই এখন কাজের গতি মোটামুটি ভালো।”
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেএফডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় ৮টি সড়ক ও ৪টি ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেড।
কার্যাদেশ পাওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না করে বর্ষা মৌসুমে সড়ক খনন শুরু করায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, উন্নয়নকাজ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য হলেও পরিকল্পনার অভাব ও ধীরগতির কারণে উল্টো দুর্ভোগ বাড়ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ে চলমান ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে কার্যকর সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মান নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত, টেকসই ও বাস্তবসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 



















