সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে, তখন মাছ খাওয়াও অনেক পরিবারের কাছে বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। বাজারে মাছের দাম মেটাতে না পেরে অনেক দরিদ্র পরিবার এখন ভরসা করছে পাঙ্গাশের ফেলে দেওয়া কাঁটা, মাথা ও লেজের ওপর। অল্প টাকায় এসব কিনেই পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।
দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এক কেজি মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে মাছের মাংসের পরিবর্তে কম দামের কাঁটা-মাথা কিনছেন অনেকে। কাঁটায় লেগে থাকা সামান্য মাছ ও চর্বি দিয়েই রান্না হচ্ছে পরিবারের তরকারি। কারও কারও কাছে এটুকুই হয়ে উঠেছে মাছের স্বাদ পাওয়ার একমাত্র সুযোগ।
অন্যদিকে বড় মাছের আড়ত ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাছ কাটার পর আলাদা হয়ে যাওয়া কাঁটা, মাথা ও লেজ কম দামে কিনে নিচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পরে সেগুলো নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। এভাবেই একদিকে তৈরি হয়েছে ছোট পরিসরের ব্যবসা, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কম দামের একটি বাজারও গড়ে উঠেছে।
মাছ কাটার কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। বাজারে ক্রেতাদের মাছ কেটে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া পারিশ্রমিকই তাদের দৈনন্দিন আয়ের অন্যতম উৎস। অর্থাৎ একটি মাছের মাংস যেমন চলে যাচ্ছে তুলনামূলক সচ্ছল মানুষের পাতে, তেমনি তার অবশিষ্ট অংশ ঘুরে যাচ্ছে দরিদ্র মানুষের খাবার ও জীবিকার বাজারে।
তবে সবচেয়ে কষ্টের দিক হলো—যে খাবারের অংশ একসময় ফেলে দেওয়া হতো, সেটিই এখন অনেক পরিবারের মাছ খাওয়ার সামর্থ্যের শেষ সীমা। পাঙ্গাশের কাঁটা-মাথার বাজার তাই শুধু একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার গল্প নয়; এটি দ্রব্যমূল্যের চাপে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যসংকট ও কঠিন জীবনসংগ্রামেরও প্রতিচ্ছবি এখন বাংলাদেশের নিম্ন বৃত্ত মানুষের।
Reporter Name 



















