Dhaka ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধামরাইয়ে চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানায় ৭০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ধামরাইয়ে চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানায় ৭০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মূল্যবোধের পাঠ: সাপাহার ক্যামব্রিয়ান ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কাউখালী-বরিশাল সরাসরি বাস সার্ভিস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান  বানারীপাড়ায় জমি দখলের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ স্থানে মসজিদের সাইনবোর্ড  হামি ডি ডাব্লিউ এর নার্সিং ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর প্রথম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার বাঁকাল শেখপাড়া জামে মসজিদে ইসলামী কুইজ প্রতিযোগিতা ও সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা সাতক্ষীরায় ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখকদের সমাবেশ

বড়লোকের পাতে ফিলেট, গরিবের ভরসা ফেলে দেয়া পাঙ্গাশের কাঁটা 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪১ Time View
সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে, তখন মাছ খাওয়াও অনেক পরিবারের কাছে বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। বাজারে মাছের দাম মেটাতে না পেরে অনেক দরিদ্র পরিবার এখন ভরসা করছে পাঙ্গাশের ফেলে দেওয়া কাঁটা, মাথা ও লেজের ওপর। অল্প টাকায় এসব কিনেই পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।
দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এক কেজি মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে মাছের মাংসের পরিবর্তে কম দামের কাঁটা-মাথা কিনছেন অনেকে। কাঁটায় লেগে থাকা সামান্য মাছ ও চর্বি দিয়েই রান্না হচ্ছে পরিবারের তরকারি। কারও কারও কাছে এটুকুই হয়ে উঠেছে মাছের স্বাদ পাওয়ার একমাত্র সুযোগ।
অন্যদিকে বড় মাছের আড়ত ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাছ কাটার পর আলাদা হয়ে যাওয়া কাঁটা, মাথা ও লেজ কম দামে কিনে নিচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পরে সেগুলো নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। এভাবেই একদিকে তৈরি হয়েছে ছোট পরিসরের ব্যবসা, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কম দামের একটি বাজারও গড়ে উঠেছে।
মাছ কাটার কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। বাজারে ক্রেতাদের মাছ কেটে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া পারিশ্রমিকই তাদের দৈনন্দিন আয়ের অন্যতম উৎস। অর্থাৎ একটি মাছের মাংস যেমন চলে যাচ্ছে তুলনামূলক সচ্ছল মানুষের পাতে, তেমনি তার অবশিষ্ট অংশ ঘুরে যাচ্ছে দরিদ্র মানুষের খাবার ও জীবিকার বাজারে।
তবে সবচেয়ে কষ্টের দিক হলো—যে খাবারের অংশ একসময় ফেলে দেওয়া হতো, সেটিই এখন অনেক পরিবারের মাছ খাওয়ার সামর্থ্যের শেষ সীমা। পাঙ্গাশের কাঁটা-মাথার বাজার তাই শুধু একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার গল্প নয়; এটি দ্রব্যমূল্যের চাপে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যসংকট ও কঠিন জীবনসংগ্রামেরও প্রতিচ্ছবি এখন বাংলাদেশের নিম্ন বৃত্ত মানুষের।
Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি কারখানায় ৭০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

বড়লোকের পাতে ফিলেট, গরিবের ভরসা ফেলে দেয়া পাঙ্গাশের কাঁটা 

Update Time : ০৬:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যখন নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে, তখন মাছ খাওয়াও অনেক পরিবারের কাছে বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। বাজারে মাছের দাম মেটাতে না পেরে অনেক দরিদ্র পরিবার এখন ভরসা করছে পাঙ্গাশের ফেলে দেওয়া কাঁটা, মাথা ও লেজের ওপর। অল্প টাকায় এসব কিনেই পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।
দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এক কেজি মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে মাছের মাংসের পরিবর্তে কম দামের কাঁটা-মাথা কিনছেন অনেকে। কাঁটায় লেগে থাকা সামান্য মাছ ও চর্বি দিয়েই রান্না হচ্ছে পরিবারের তরকারি। কারও কারও কাছে এটুকুই হয়ে উঠেছে মাছের স্বাদ পাওয়ার একমাত্র সুযোগ।
অন্যদিকে বড় মাছের আড়ত ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাছ কাটার পর আলাদা হয়ে যাওয়া কাঁটা, মাথা ও লেজ কম দামে কিনে নিচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পরে সেগুলো নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করছেন। এভাবেই একদিকে তৈরি হয়েছে ছোট পরিসরের ব্যবসা, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কম দামের একটি বাজারও গড়ে উঠেছে।
মাছ কাটার কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। বাজারে ক্রেতাদের মাছ কেটে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া পারিশ্রমিকই তাদের দৈনন্দিন আয়ের অন্যতম উৎস। অর্থাৎ একটি মাছের মাংস যেমন চলে যাচ্ছে তুলনামূলক সচ্ছল মানুষের পাতে, তেমনি তার অবশিষ্ট অংশ ঘুরে যাচ্ছে দরিদ্র মানুষের খাবার ও জীবিকার বাজারে।
তবে সবচেয়ে কষ্টের দিক হলো—যে খাবারের অংশ একসময় ফেলে দেওয়া হতো, সেটিই এখন অনেক পরিবারের মাছ খাওয়ার সামর্থ্যের শেষ সীমা। পাঙ্গাশের কাঁটা-মাথার বাজার তাই শুধু একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার গল্প নয়; এটি দ্রব্যমূল্যের চাপে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যসংকট ও কঠিন জীবনসংগ্রামেরও প্রতিচ্ছবি এখন বাংলাদেশের নিম্ন বৃত্ত মানুষের।
Spread the love