Dhaka ০৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণা; আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শুক্রবার নেছারাবাদে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে বিধবার আকুতি কুমিল্লা রিজিয়নে ৫ হাজার গাছ লাগানোর ঘোষণা শাহিনুর আলমের সাতক্ষীরায় দাম কমেছে আদা-পেঁয়াজের দাম ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের মৃত্যুতে ফকির নাসির উদ্দিনের গভীর শোক প্রকাশ নেছারাবাদে শামসল হক মিয়ার ইন্তেকাল, প্রতিমন্ত্রীর শোক  ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা: এনপিপির ভান্ডারিয়ায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু,স্বস্তি ফিরছে ৪০ হাজার পরিবারের মাঝে ​জমি বিরোধের জেরে উজিরপুরে মানববন্ধনে সংঘর্ষ, আহত ৩০, থানায় পৃথক অভিযোগ কাউখালীতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

পিরোজপুর নামকরণের ইতিহাস: ফিরোজ শাহ থেকে আজকের পিরোজপুর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৯০ Time View

 

সাউথ বেঙ্গল প্রতিবেদক, পিরোজপুর ;

নদী-নালা, সবুজ প্রকৃতি এবং পেয়ারা-আমড়ার জন্য সুপরিচিত দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পিরোজপুর। তবে জেলার নামকরণ এবং এর প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা কৌতূহল ও জনশ্রুতি। মোগল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনকাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে আজকের পিরোজপুর।


ইতিহাসবিদদের মতে, পিরোজপুরের আদি নাম ছিল ‘ফিরোজপুর’। মোগল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র ও বাংলার সুবেদার শাহ সুজা এ অঞ্চলে সফরকালে এর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্বস্ত সেনাপতি ফিরোজ শাহ। ধারণা করা হয়, সেনাপতি ফিরোজ শাহের নামানুসারেই এলাকার নামকরণ করা হয়েছিল ‘ফিরোজপুর।

পরবর্তীকালে স্থানীয় মানুষের উচ্চারণগত পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক ভাষার প্রভাবে ‘ফ’ ধ্বনি ‘প’-তে রূপান্তরিত হয়। ফলে ‘ফিরোজপুর’ নামটি ধীরে ধীরে ‘পিরোজপুর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।


তবে নামকরণ নিয়ে আরেকটি লোকশ্রুতিও প্রচলিত রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহু আগে এ অঞ্চলে একজন প্রভাবশালী পীর বা দরবেশ বসবাস করতেন। তাঁর নাম ও প্রভাবের কারণে এলাকাটি ‘পীরের শহর’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই ‘পিরোজপুর’ নামের উৎপত্তি বলে অনেকের ধারণা। যদিও ইতিহাস গবেষকদের কাছে ফিরোজ শাহের নামানুসারে নামকরণের তথ্যই অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
ঐতিহাসিকভাবে পিরোজপুর কোনো স্বতন্ত্র প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল না। প্রাচীনকালে এটি বৃহত্তর বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বর্তমান বরিশাল অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত।


ইতিহাস থেকে জানা যায়, পিরোজপুরের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা একসময় সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে আচ্ছাদিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বনভূমি পরিষ্কার করে সেখানে মানববসতি গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে কচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও কালীগঙ্গাসহ অসংখ্য নদী বেষ্টিত হওয়ায় অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই নৌযোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।


ব্রিটিশ শাসনামলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর করতে ১৮৫৯ সালে পিরোজপুরকে একটি মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এটি তৎকালীন বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল) জেলার অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়।

পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ১৯৮৪ সালে পিরোজপুর মহকুমাকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়। সেই থেকে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পিরোজপুর আজ দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। মোগল সেনাপতি ফিরোজ শাহের স্মৃতিবাহী ‘ফিরোজপুর’ নামটি সময়ের বিবর্তনে রূপ নিয়েছে আজকের পরিচিত ‘পিরোজপুর’-এ।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণা; আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শুক্রবার

পিরোজপুর নামকরণের ইতিহাস: ফিরোজ শাহ থেকে আজকের পিরোজপুর

Update Time : ০২:৪৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

সাউথ বেঙ্গল প্রতিবেদক, পিরোজপুর ;

নদী-নালা, সবুজ প্রকৃতি এবং পেয়ারা-আমড়ার জন্য সুপরিচিত দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পিরোজপুর। তবে জেলার নামকরণ এবং এর প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা কৌতূহল ও জনশ্রুতি। মোগল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনকাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে আজকের পিরোজপুর।


ইতিহাসবিদদের মতে, পিরোজপুরের আদি নাম ছিল ‘ফিরোজপুর’। মোগল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র ও বাংলার সুবেদার শাহ সুজা এ অঞ্চলে সফরকালে এর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্বস্ত সেনাপতি ফিরোজ শাহ। ধারণা করা হয়, সেনাপতি ফিরোজ শাহের নামানুসারেই এলাকার নামকরণ করা হয়েছিল ‘ফিরোজপুর।

পরবর্তীকালে স্থানীয় মানুষের উচ্চারণগত পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক ভাষার প্রভাবে ‘ফ’ ধ্বনি ‘প’-তে রূপান্তরিত হয়। ফলে ‘ফিরোজপুর’ নামটি ধীরে ধীরে ‘পিরোজপুর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।


তবে নামকরণ নিয়ে আরেকটি লোকশ্রুতিও প্রচলিত রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহু আগে এ অঞ্চলে একজন প্রভাবশালী পীর বা দরবেশ বসবাস করতেন। তাঁর নাম ও প্রভাবের কারণে এলাকাটি ‘পীরের শহর’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই ‘পিরোজপুর’ নামের উৎপত্তি বলে অনেকের ধারণা। যদিও ইতিহাস গবেষকদের কাছে ফিরোজ শাহের নামানুসারে নামকরণের তথ্যই অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
ঐতিহাসিকভাবে পিরোজপুর কোনো স্বতন্ত্র প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল না। প্রাচীনকালে এটি বৃহত্তর বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বর্তমান বরিশাল অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত।


ইতিহাস থেকে জানা যায়, পিরোজপুরের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা একসময় সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে আচ্ছাদিত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বনভূমি পরিষ্কার করে সেখানে মানববসতি গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে কচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও কালীগঙ্গাসহ অসংখ্য নদী বেষ্টিত হওয়ায় অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই নৌযোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।


ব্রিটিশ শাসনামলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর করতে ১৮৫৯ সালে পিরোজপুরকে একটি মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এটি তৎকালীন বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল) জেলার অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়।

পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ১৯৮৪ সালে পিরোজপুর মহকুমাকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা হয়। সেই থেকে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পিরোজপুর আজ দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। মোগল সেনাপতি ফিরোজ শাহের স্মৃতিবাহী ‘ফিরোজপুর’ নামটি সময়ের বিবর্তনে রূপ নিয়েছে আজকের পরিচিত ‘পিরোজপুর’-এ।

Spread the love