Dhaka ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

শিকলে বন্দি ১৫ বছর: মুক্তির অপেক্ষায় মিতু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০৩ Time View

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি;

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিক এক করুণ চিত্র চোখে পড়ে। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই পায়ে শিকল ও বেড়ি পরে গত ১৫ বছর ধরে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন মিতু নামের এক তরুণী।

পরিবারের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন মিতু। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় তাকে হারানোর আশঙ্কা থেকেই ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা এখন পরিণত হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা নিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিকাশ কার্যত থমকে গেছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম অসহায় কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়েই বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাই চিকিৎসাও করাতে পারিনি। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

প্রায় আট বছর আগে মারা গেছেন মিতুর বাবা আবুল মোড়ল। বর্তমানে মা-ই তার দেখভাল করছেন। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোন থাকলেও সংসারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র আট হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন—চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আরও দুরূহ।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. খালিদ হাসান নয়ন জানান, “উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত মিতুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং সমাজসেবা দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে মিতু শিকলবন্দী এই জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

শিকলে বন্দি ১৫ বছর: মুক্তির অপেক্ষায় মিতু

Update Time : ০২:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি;

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিক এক করুণ চিত্র চোখে পড়ে। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই পায়ে শিকল ও বেড়ি পরে গত ১৫ বছর ধরে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন মিতু নামের এক তরুণী।

পরিবারের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন মিতু। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় তাকে হারানোর আশঙ্কা থেকেই ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা এখন পরিণত হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা নিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিকাশ কার্যত থমকে গেছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম অসহায় কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়েই বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাই চিকিৎসাও করাতে পারিনি। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

প্রায় আট বছর আগে মারা গেছেন মিতুর বাবা আবুল মোড়ল। বর্তমানে মা-ই তার দেখভাল করছেন। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোন থাকলেও সংসারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র আট হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন—চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আরও দুরূহ।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. খালিদ হাসান নয়ন জানান, “উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত মিতুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং সমাজসেবা দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে মিতু শিকলবন্দী এই জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

Spread the love