Dhaka ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বলদিয়া মলুহার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা: দুই শিক্ষক অব্যাহতি, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র সচিবের ভূমিকা বানারীপাড়ায় অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করায় অপরাধে ডিলারকে জরিমানা হারবাংয়ে ৩০শতক বনভূমি দখলমুক্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সাতক্ষীরায় ৪০ দিনেও উদ্ধার হয়নি মন্দিরের সোনা, ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রিকশাচালক বাবার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও কষ্ট যেন মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেছে। শিকলে বন্দি ১৫ বছর: মুক্তির অপেক্ষায় মিতু সাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় শিশু ধ”র্ষ”ণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড সাতক্ষীরায় ২৯ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন, দায়িত্বে থাকছেন অন্য স্কুলের শিক্ষকরা ধামরাই থেকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেলেন সুলতানা আহমেদ।

শিকলে বন্দি ১৫ বছর: মুক্তির অপেক্ষায় মিতু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৭ Time View

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি;

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিক এক করুণ চিত্র চোখে পড়ে। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই পায়ে শিকল ও বেড়ি পরে গত ১৫ বছর ধরে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন মিতু নামের এক তরুণী।

পরিবারের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন মিতু। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় তাকে হারানোর আশঙ্কা থেকেই ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা এখন পরিণত হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা নিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিকাশ কার্যত থমকে গেছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম অসহায় কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়েই বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাই চিকিৎসাও করাতে পারিনি। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

প্রায় আট বছর আগে মারা গেছেন মিতুর বাবা আবুল মোড়ল। বর্তমানে মা-ই তার দেখভাল করছেন। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোন থাকলেও সংসারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র আট হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন—চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আরও দুরূহ।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. খালিদ হাসান নয়ন জানান, “উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত মিতুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং সমাজসেবা দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে মিতু শিকলবন্দী এই জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বলদিয়া মলুহার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা: দুই শিক্ষক অব্যাহতি, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র সচিবের ভূমিকা

শিকলে বন্দি ১৫ বছর: মুক্তির অপেক্ষায় মিতু

Update Time : ০২:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি;

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিক এক করুণ চিত্র চোখে পড়ে। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই পায়ে শিকল ও বেড়ি পরে গত ১৫ বছর ধরে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন মিতু নামের এক তরুণী।

পরিবারের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন মিতু। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়ায় তাকে হারানোর আশঙ্কা থেকেই ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা এখন পরিণত হয়েছে এক নির্মম বাস্তবতায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা নিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিকাশ কার্যত থমকে গেছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম অসহায় কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়েই বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাই চিকিৎসাও করাতে পারিনি। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

প্রায় আট বছর আগে মারা গেছেন মিতুর বাবা আবুল মোড়ল। বর্তমানে মা-ই তার দেখভাল করছেন। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোন থাকলেও সংসারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র আট হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন—চিকিৎসা ব্যয় বহন করা আরও দুরূহ।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. খালিদ হাসান নয়ন জানান, “উন্নত ও নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত মিতুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং সমাজসেবা দপ্তর থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে মিতু শিকলবন্দী এই জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

Spread the love