
প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)
নওগাঁর সাপাহারে এক নাবালক শিশুকে জুস, বিস্কুট ও চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে অভিনব কৌশলে তার নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে মোঃ রাইয়ান (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সাপাহার থানা পুলিশ। এ ঘটনায় চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের অভিযোগে এক জুয়েলার্স ব্যবসায়কেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাপাহার থানাধীন সাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল কুমার সাহার নাবালক ছেলে কুশল সাহাকে বিভিন্ন সময় খাবারদাবারের প্রলোভন দেখিয়ে এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধাপে ধাপে মোট ১২ ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত রাইয়ান। শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে সে বাড়ির আলমারি ও গোপন স্থানে রাখা স্বর্ণালংকার বের করে নিতে কৌশলে ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উজ্জ্বল কুমার সাহার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে মূল অভিযুক্ত মোঃ রাইয়ানকে গ্রেফতার করে সাপাহার থানা পুলিশ। এ সংক্রান্তে সাপাহার থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত রাইয়ানের কাছ থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং তদন্তে চুরির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত রাইয়ান চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারগুলো পত্নীতলা থানারোডে অবস্থিত অঙ্গরাজ জুয়েলার্সে বিভিন্ন সময় ধাপে ধাপে বিক্রি করেছে। এ ঘটনায় জুয়েলার্স মালিক শ্রী উজ্জ্বল কুমার (৩৬), পিতা মৃত মদনমোহন, সাং ছোট চাঁদপুর, থানা পত্নীতলা, জেলা নওগাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি পুলিশের কাছে বিভিন্ন সময়ে রাইয়ানের কাছ থেকে স্বর্ণ ক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত রাইয়ান এর আগেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গভীর তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। চোরাইকৃত স্বর্ণ উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ 



















