
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরের রূপাতলির একটি মেসে অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজনকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে রূপাতলি ২২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসা ঘিরে রেখে পুলিশকে খবর দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে থানায় নিয়ে যায়।

তাঁরা হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ও আকরাম খান ইমন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি।আটক ব্যক্তিদের একজন মাহমুদুল হাসান তমাল, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সহপাঠীদের একটি অংশ দাবি করছে।
জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে তমালের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার অভিযানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাকে ধরেন। আমি আগেও জেল খেটেছি। আওয়ামী লীগ আমলেও জেল খেটেছি। আবার জেল খাটবো ভাই।
ঘটনার পর আটক আরেকজন আকরাম খান ইমন অভিযোগ করেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি অনেক আগেই পড়াশোনা শেষ করেছি, ছাত্রলীগের সঙ্গে এখন কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা কী ছিল, সেটা ক্যাম্পাসের যে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে।
ইমন দাবি করেন, যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, অতীতে তাঁরাই বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, এখন উল্টো আমাদের ছাত্রলীগ বানিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইমন বলেন, আমি ছাত্রদল করেছি। আমার ছাত্রলীগের কোনো পদ ছিল কি না, সেটাই আগে দেখাক।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ওই বাসায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠক করছিলেন।এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পাশাপাশি সেখানে মাদক কারবারের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ বলছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারজনকে থানায় আনে।
কোতোয়ালি থানার এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 





















