Dhaka ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুন্দরবনে বনদস্যুদের আতঙ্কে জেলেরা, নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌয়াল

 

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা ;

সুন্দরবনে এখন ফুল ফোটার মৌসুম। খলিসা, গরান ও কেওড়াসহ নানা গাছের ফুলে রঙের সমারোহে সেজে উঠেছে বনভূমি। আর এসব ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালেরা। ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে আগামী দুই মাস।

বন বিভাগের তথ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে খলিসা ও গরান ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়, পরে আসে কেওড়া ফুলের মধু। এর মধ্যে খলিসা মধু সবচেয়ে দামি। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকেই সর্বোচ্চ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ আছে, বৈধ পাসের আগেই চোরাকারবারিরা বনে ঢুকে অপরিণত চাক কেটে মধু সংগ্রহ করে নেয়। এতে বৈধভাবে বনে যাওয়া মৌয়ালরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ চাক থেকে যেখানে ৫-৭ কেজি মধু পাওয়া সম্ভব, সেখানে আগাম কেটে নেওয়ায় অনেক সময় ৫০০ গ্রামও পাওয়া যায় না।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মৌয়াল প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে বনে যাচ্ছেন। তবে এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় ধরনের ঝুঁকি। বাঘ, বিষধর সাপসহ বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি বনদস্যুদের আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে বেড়ায় তাদের। অনেক ক্ষেত্রে বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিজ্ঞ মৌয়ালদের ভাষায়, “মধু খোঁজা মানেই বাঘের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।” গভীর বনে দিনের পর দিন হেঁটে মৌচাক খুঁজে বের করতে হয়। পরে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি সরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চাক কেটে মধু সংগ্রহ করা হয়, যাতে রানি মৌমাছি ও লার্ভার ক্ষতি না হয়। সঠিক পদ্ধতিতে একটি চাক থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া সম্ভব।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ৪৩৭টি পাসের বিপরীতে ২ হাজার ৮৫৮ জন মৌয়াল বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ দিনে একজন মৌয়াল সর্বোচ্চ ৫০ কেজি মধু ও ১৫ কেজি মোম সংগ্রহ করতে পারবেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু আহরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনিয়ম বা অতিরিক্ত আহরণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌয়াল

Update Time : ০৬:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা ;

সুন্দরবনে এখন ফুল ফোটার মৌসুম। খলিসা, গরান ও কেওড়াসহ নানা গাছের ফুলে রঙের সমারোহে সেজে উঠেছে বনভূমি। আর এসব ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালেরা। ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে আগামী দুই মাস।

বন বিভাগের তথ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে খলিসা ও গরান ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়, পরে আসে কেওড়া ফুলের মধু। এর মধ্যে খলিসা মধু সবচেয়ে দামি। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকেই সর্বোচ্চ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ আছে, বৈধ পাসের আগেই চোরাকারবারিরা বনে ঢুকে অপরিণত চাক কেটে মধু সংগ্রহ করে নেয়। এতে বৈধভাবে বনে যাওয়া মৌয়ালরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ চাক থেকে যেখানে ৫-৭ কেজি মধু পাওয়া সম্ভব, সেখানে আগাম কেটে নেওয়ায় অনেক সময় ৫০০ গ্রামও পাওয়া যায় না।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মৌয়াল প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে বনে যাচ্ছেন। তবে এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় ধরনের ঝুঁকি। বাঘ, বিষধর সাপসহ বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি বনদস্যুদের আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে বেড়ায় তাদের। অনেক ক্ষেত্রে বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিজ্ঞ মৌয়ালদের ভাষায়, “মধু খোঁজা মানেই বাঘের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।” গভীর বনে দিনের পর দিন হেঁটে মৌচাক খুঁজে বের করতে হয়। পরে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি সরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চাক কেটে মধু সংগ্রহ করা হয়, যাতে রানি মৌমাছি ও লার্ভার ক্ষতি না হয়। সঠিক পদ্ধতিতে একটি চাক থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া সম্ভব।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ৪৩৭টি পাসের বিপরীতে ২ হাজার ৮৫৮ জন মৌয়াল বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ দিনে একজন মৌয়াল সর্বোচ্চ ৫০ কেজি মধু ও ১৫ কেজি মোম সংগ্রহ করতে পারবেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু আহরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনিয়ম বা অতিরিক্ত আহরণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

Spread the love