Dhaka ০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাপাহারে সরকারি রাস্তা দখল করে আড়ৎ নির্মাণ, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ। চকরিয়ায় সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বসতঘরে ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সাতক্ষীরায় ডিবি ইউনাইটেড হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান বাকেরগঞ্জে অসহায় ভ্যান চালকের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি কাউখালীতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি ভান্ডারিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সাতক্ষীরা যানজটে অ’চ’ল রোদে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাতক্ষীরা নববর্ষে সাতদিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌয়াল

 

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা ;

সুন্দরবনে এখন ফুল ফোটার মৌসুম। খলিসা, গরান ও কেওড়াসহ নানা গাছের ফুলে রঙের সমারোহে সেজে উঠেছে বনভূমি। আর এসব ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালেরা। ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে আগামী দুই মাস।

বন বিভাগের তথ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে খলিসা ও গরান ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়, পরে আসে কেওড়া ফুলের মধু। এর মধ্যে খলিসা মধু সবচেয়ে দামি। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকেই সর্বোচ্চ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ আছে, বৈধ পাসের আগেই চোরাকারবারিরা বনে ঢুকে অপরিণত চাক কেটে মধু সংগ্রহ করে নেয়। এতে বৈধভাবে বনে যাওয়া মৌয়ালরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ চাক থেকে যেখানে ৫-৭ কেজি মধু পাওয়া সম্ভব, সেখানে আগাম কেটে নেওয়ায় অনেক সময় ৫০০ গ্রামও পাওয়া যায় না।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মৌয়াল প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে বনে যাচ্ছেন। তবে এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় ধরনের ঝুঁকি। বাঘ, বিষধর সাপসহ বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি বনদস্যুদের আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে বেড়ায় তাদের। অনেক ক্ষেত্রে বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিজ্ঞ মৌয়ালদের ভাষায়, “মধু খোঁজা মানেই বাঘের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।” গভীর বনে দিনের পর দিন হেঁটে মৌচাক খুঁজে বের করতে হয়। পরে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি সরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চাক কেটে মধু সংগ্রহ করা হয়, যাতে রানি মৌমাছি ও লার্ভার ক্ষতি না হয়। সঠিক পদ্ধতিতে একটি চাক থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া সম্ভব।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ৪৩৭টি পাসের বিপরীতে ২ হাজার ৮৫৮ জন মৌয়াল বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ দিনে একজন মৌয়াল সর্বোচ্চ ৫০ কেজি মধু ও ১৫ কেজি মোম সংগ্রহ করতে পারবেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু আহরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনিয়ম বা অতিরিক্ত আহরণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাপাহারে সরকারি রাস্তা দখল করে আড়ৎ নির্মাণ, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌয়াল

Update Time : ০৬:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা ;

সুন্দরবনে এখন ফুল ফোটার মৌসুম। খলিসা, গরান ও কেওড়াসহ নানা গাছের ফুলে রঙের সমারোহে সেজে উঠেছে বনভূমি। আর এসব ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালেরা। ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে আগামী দুই মাস।

বন বিভাগের তথ্যমতে, মৌসুমের শুরুতে খলিসা ও গরান ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়, পরে আসে কেওড়া ফুলের মধু। এর মধ্যে খলিসা মধু সবচেয়ে দামি। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকেই সর্বোচ্চ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ আছে, বৈধ পাসের আগেই চোরাকারবারিরা বনে ঢুকে অপরিণত চাক কেটে মধু সংগ্রহ করে নেয়। এতে বৈধভাবে বনে যাওয়া মৌয়ালরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ চাক থেকে যেখানে ৫-৭ কেজি মধু পাওয়া সম্ভব, সেখানে আগাম কেটে নেওয়ায় অনেক সময় ৫০০ গ্রামও পাওয়া যায় না।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মৌয়াল প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে বনে যাচ্ছেন। তবে এই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বড় ধরনের ঝুঁকি। বাঘ, বিষধর সাপসহ বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি বনদস্যুদের আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে বেড়ায় তাদের। অনেক ক্ষেত্রে বনে প্রবেশের আগেই দস্যুদের চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিজ্ঞ মৌয়ালদের ভাষায়, “মধু খোঁজা মানেই বাঘের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।” গভীর বনে দিনের পর দিন হেঁটে মৌচাক খুঁজে বের করতে হয়। পরে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি সরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চাক কেটে মধু সংগ্রহ করা হয়, যাতে রানি মৌমাছি ও লার্ভার ক্ষতি না হয়। সঠিক পদ্ধতিতে একটি চাক থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া সম্ভব।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ৪৩৭টি পাসের বিপরীতে ২ হাজার ৮৫৮ জন মৌয়াল বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ১৪ দিনে একজন মৌয়াল সর্বোচ্চ ৫০ কেজি মধু ও ১৫ কেজি মোম সংগ্রহ করতে পারবেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু আহরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অনিয়ম বা অতিরিক্ত আহরণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

Spread the love