প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঈদের সালামি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বরূপকাঠি পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা বিষয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ইজারা সংক্রান্ত বিষয়কে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তাকে জড়িয়ে এ অপপ্রচার চালানো হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি পৌরসভার আওতাধীন ৯টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯৩টি দরপত্রের শিডিউল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও ১৭ ফেব্রুয়ারি জমা দেওয়ার শেষ দিনে কেউ দরপত্র জমা দেননি।
পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি এবং ৩ মার্চ জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রথম ধাপে বেশি শিডিউল বিক্রি হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে কেউ অংশ নেননি।
পরবর্তীতে তৃতীয় পর্যায়ে ৯ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি করা হয় এবং ১৬ মার্চ দরপত্র জমা নেওয়া হয়। শেষ দিনে কয়েকজন ব্যক্তি ২৭টি শিডিউল ক্রয় করে নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাউকে শিডিউল ক্রয় বা জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়নি।
ইজারা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. বাদল, একই ওয়ার্ডের মো. শফিকুল ইসলাম এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম (মামুন)।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদার মুঠোফোনে জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং পরে কথা বলবেন।
পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, কাউকে শিডিউল কিনতে বা জমা দিতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। সবাই স্বাধীনভাবে দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই, আমিও কোনো দরপত্র ক্রয় করিনি। এছাড়াও স্বরূপকাঠীতে আমার কোনো ব্যবসা নেই। আমি এখানে শুধু রাজনীতি করি, কোনো আয় করি না। আমার ব্যবসা-বাণিজ্য সবই ঢাকায়। একজন ফেসবুক সাংবাদিক ঈদের সালামি চেয়েছিলেন, আমি দিইনি। তাই তিনি আমার নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন এবং প্রতিমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বরূপকাঠী পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, প্রথম ধাপে দরপত্র বিক্রি হলেও কেউ জমা দেয়নি। পরে তৃতীয় ধাপে দরপত্র জমা নেওয়া হয়। দরপত্র ক্রয় বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনগতভাবে এখানে আমাদের করণীয় কিছু নেই।
Reporter Name 






















