Dhaka ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাপাহারে সরকারি রাস্তা দখল করে আড়ৎ নির্মাণ, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ। চকরিয়ায় সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বসতঘরে ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সাতক্ষীরায় ডিবি ইউনাইটেড হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান বাকেরগঞ্জে অসহায় ভ্যান চালকের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি কাউখালীতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি ভান্ডারিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সাতক্ষীরা যানজটে অ’চ’ল রোদে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাতক্ষীরা নববর্ষে সাতদিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

আশরাফুল ইসলাম চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৬৯ Time View

 

প্রতিনিধি,পঞ্চগড় ;

 

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় আশরাফুল ইসলাম নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র্র করে এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আশরাফুল ইসলাম জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৬ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আশরাফুল ইসলাম নামে ওই ইউপি চেয়ারম্যান একটি কক্ষের ভেতরে গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বিছানার ওপর বসে আছেন। তার হাতে সিগারেট সদৃশ্য একটি ফিল্টার দেখা যায় এবং পাশে থাকা আরেকজন ব্যক্তি সেটিতে আগুন ধরিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। পরে তাকে সেটিতে টান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে মাদক সেবনের ভিডিও বলে দাবি করছেন।

এদিকে একজন জনপ্রতিনিধির এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই মাদক সেবনের দৃশ্য বলে দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরালের ২ দিন পর গত শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, ভিডিওটি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পূর্বের সিগারেট খাওয়ার ভিডিও এবং সেটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে এডিট করে ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এটি মাদক সেবনের ভিডিও নয়।
তিনি ভিডিওটিতে সিগারেট খাওয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সেটি নেশা নয়, সেটি এরাবিয়ান সোগা, সোগা দিয়ে পেচিয়ে সিগারেট খাওয়ার ভিডিওকে ভিন্ন খাতে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’ লাইভে তিনি আরও বলেন, আশরাফুল চেয়ারম্যান হওয়ার আগে অনেক কিছুই করেছি আগের আশরাফুল ইসলাম আর বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের মধ্যে আকাশ-জমিন পার্থক্য। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পিতভাবে এডিট করে মাদক সেবনের ভিডিও তৈরি করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিদেশে আমার (সিঙ্গাপুরে) অবস্থানকালে অনেক কিছু করেছি। পাশাপাশি তিনি মদ্যপানও (ড্রিংক) করে ছিলেন বলে লাইভে এসে স্বীকার করেন। তবে দেশে ফিরে তিনি এসব থেকে বিরত থেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছেন বলেও দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, চেয়ারম্যান আশরাফুল মাদক সেবন করছেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি দেখেছেন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ওই চেয়ারম্যান সাসপেন্ড অবস্থায় আছে। বরখাস্ত থেকে ফেরত আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধের বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণও পায় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এখনও তিনি বহাল তবিয়তে চেয়ারম্যানে পদে বহাল রয়েছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাপাহারে সরকারি রাস্তা দখল করে আড়ৎ নির্মাণ, গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ।

আশরাফুল ইসলাম চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল

Update Time : ০৭:০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

প্রতিনিধি,পঞ্চগড় ;

 

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় আশরাফুল ইসলাম নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র্র করে এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আশরাফুল ইসলাম জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৬ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আশরাফুল ইসলাম নামে ওই ইউপি চেয়ারম্যান একটি কক্ষের ভেতরে গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বিছানার ওপর বসে আছেন। তার হাতে সিগারেট সদৃশ্য একটি ফিল্টার দেখা যায় এবং পাশে থাকা আরেকজন ব্যক্তি সেটিতে আগুন ধরিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। পরে তাকে সেটিতে টান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে মাদক সেবনের ভিডিও বলে দাবি করছেন।

এদিকে একজন জনপ্রতিনিধির এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই মাদক সেবনের দৃশ্য বলে দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরালের ২ দিন পর গত শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, ভিডিওটি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পূর্বের সিগারেট খাওয়ার ভিডিও এবং সেটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে এডিট করে ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এটি মাদক সেবনের ভিডিও নয়।
তিনি ভিডিওটিতে সিগারেট খাওয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সেটি নেশা নয়, সেটি এরাবিয়ান সোগা, সোগা দিয়ে পেচিয়ে সিগারেট খাওয়ার ভিডিওকে ভিন্ন খাতে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’ লাইভে তিনি আরও বলেন, আশরাফুল চেয়ারম্যান হওয়ার আগে অনেক কিছুই করেছি আগের আশরাফুল ইসলাম আর বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের মধ্যে আকাশ-জমিন পার্থক্য। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পিতভাবে এডিট করে মাদক সেবনের ভিডিও তৈরি করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিদেশে আমার (সিঙ্গাপুরে) অবস্থানকালে অনেক কিছু করেছি। পাশাপাশি তিনি মদ্যপানও (ড্রিংক) করে ছিলেন বলে লাইভে এসে স্বীকার করেন। তবে দেশে ফিরে তিনি এসব থেকে বিরত থেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছেন বলেও দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, চেয়ারম্যান আশরাফুল মাদক সেবন করছেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি দেখেছেন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ওই চেয়ারম্যান সাসপেন্ড অবস্থায় আছে। বরখাস্ত থেকে ফেরত আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধের বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণও পায় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এখনও তিনি বহাল তবিয়তে চেয়ারম্যানে পদে বহাল রয়েছেন।

Spread the love