প্রতিনিধি নেছারাবাদ পিরোজপুর ;
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ভরতকাঠি ফেরিঘাটের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে অনুপ (২৮) নামে এক পথচারী যুবককে প্রকাশ্যে লাথি ও থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক যুবক তাঁর ছেলে মো. শিহাব শেখ পরিচয় দিয়ে অনুপকে ১০ মিনিটের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী অনুপের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার গাউখালী গ্রামে। তিনি শ্রীরামকাঠি হয়ে ফেরি পার হয়ে ভরতকাঠিতে বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযুক্ত নারীর নাম নিপা বেগম। তিনি শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের ভীমকাঠি গ্রামের বালু ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা মো. মহিউদ্দীন শেখের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক ফাইজুল ইসলাম জানান, ওই নারী এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ফেরিঘাট থেকে অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দিকে আসছিলেন। এ সময় অনুপ অটোরিকশায় ওঠার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন। মোটরসাইকেল চালক তাঁকে ধমক দিয়ে কথা বললে অনুপও প্রতিবাদ করেন।
একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
ফাইজুলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা নারী নেমে অনুপের স্পর্শকাতর স্থানে লাথি মারেন এবং গালে চড় দেন। পরে অনুপ তাঁকে নিজের অপরাধ জানতে চাইলে ওই নারী তাঁকে হুমকির সুরে বলেন, তিনি কার ছেলের সঙ্গে তর্ক করছেন? তুমি আমাকে চিনো?
ভুক্তভোগী অনুপ অভিযোগ করে বলেন, “আমি ফেরি পার হয়ে হেঁটে অটোরিকশা স্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা এক যুবক আমাকে হর্ন শুনতে না পাওয়ার বিষয়ে ধমক দেন। এর জবাব দিতে গেলে তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা নারী নেমে আমার স্পর্শকাতর স্থানে সজোরে লাথি মারেন এবং গালে চড় মারে।
অনুপ আরও বলেন, স্থানীয়রা তাঁদের থামানোর চেষ্টা করলে ওই নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা যুবক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় ওই যুবক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ১০ মিনিটের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত নারীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কে, শ্রীরামকাঠি গিয়ে দেখেন। আমাকে সবাই চেনে।” এরপর তিনি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর স্বামী মো. মহিউদ্দীন শেখ বলেন, “আমার স্ত্রী ও ছেলে দূরে কোথাও গেছে। বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনা সত্য হলে আমি এর বিচার করব।” পরে এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি দূরে আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অনুপ বিষয়টি সহজ ভাবে নিতে পারছেন বা কাউকে কিছু বলতেও পারছেন না। উপস্থিত সকলেই অনুপের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।