হিজলা (বরিশাল) প্রতিনিধি ;
বরিশালের হিজলা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সৎ মা ও বোনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছেলে মো. মারুফ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার পত্তনীভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোঃ হোসেন বাদী হয়ে হিজলা থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলায় মো. হোসেনের ছেলে মো. মারুফ, মারুফের স্ত্রী মিনা মদিনাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় মারুফের স্ত্রী মিনা মদিনাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে।
মামলার বাদী মো. হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য হয়ে চলাফেরা করছে এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে থাকতে পারেন না। ছেলেদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মো. হোসেন আরও বলেন, তার প্রথম সংসারের ছেলে-মেয়েরা মাঝেমধ্যে তাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটাতে মঙ্গলবার সকালে তিনি বাড়ির জায়গা-জমি ও ঘরবাড়ি ছেলেদের নামে দলিল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে যান। সেখানে সামান্য বিষয় নিয়ে তার প্রথম সংসারের মেজো ছেলে মারুফ ও তার স্ত্রী তাকে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, পরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে ফিরে আসার সময় মারুফ, তার স্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে শক্ত ও মোটা লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার স্ত্রী ও সন্তান গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরে তাকে হুমকি দেয় বলিয়া জানান।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস মিয়া বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে মো. হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে ঠিকমতো থাকতে পারেন না। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে তিনি ছেলে মারুফকে জায়গা ও ঘরবাড়ি দলিল করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই মারুফ ও তার স্ত্রী সৎ মা ও বোনের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।