
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
নারী সংক্রান্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই দলের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি, যা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক নীতি-নির্ধারণী বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্রান্ত ভিডিও এবং তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক অভ্যন্তরীণ টিমের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই তার বিরুদ্ধে আনীত নৈতিক স্খলনের অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণ হাতে পায় দলটি।
বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, নীতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে দল কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধ বরদাশত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“যেকোনো অনৈতিকতা ও অপকর্মের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নৈতিকতার প্রশ্নে কেউ পদে থাকল কি থাকল না, সেটি বিবেচ্য নয়। অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিললে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এখানে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই গাজী নজরুলের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি দলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে। এরপরই দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানায়।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা ও তদন্ত প্রতিবেদন মূল্যায়নের জন্য আজ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠক শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংগঠনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুধু সাবেক এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধই নয়, এ ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সার্বিক ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতাও গভীরভাবে মূল্যায়ন করছে কেন্দ্রীয় দলীয় নেতৃত্ব।