সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ৩১ বছরে পা রেখেছেন। নিজের ট্রেডমার্ক কাটার, স্লোয়ার ও নিখুঁত সুইং বোলিংয়ে বিশ্বের সেরা ব্যাটারদেরও বিপাকে ফেলা এই তারকা ক্রিকেটার ১৯৯৫ সালের এই দিনে সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও অপরিহার্য বোলারে পরিণত হয়েছেন।
সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্রিকেট অঙ্গনের নজরে আসেন মোস্তাফিজ। ২০১২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পেস ফাউন্ডেশনের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর পেশাদার ক্রিকেট যাত্রা। ২০১৩-১৪ মৌসুমে খুলনা বিভাগের হয়ে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর।
পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৮ উইকেট শিকার করে আলোচনায় আসেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সুযোগ পান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। অভিষেক ম্যাচেই শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের মাত্র দুই মাস পর, ২০১৫ সালের ১৯ জুন ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক ঘটে মোস্তাফিজের। অভিষেক ম্যাচে ৫০ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। পরের ম্যাচে ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নেওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে গড়েন অনন্য রেকর্ড।
তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতকে সিরিজে পরাজিত করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে ৪৩ রান তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং ফিগার হিসেবে এখনো স্মরণীয় হয়ে আছে।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও গড়েছেন একাধিক কীর্তি। ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেট শিকারের গৌরব অর্জন করেন। একই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের দ্রুততম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে শেষ করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে।
তিন দশক পেরিয়েও জাতীয় দলের বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা হয়ে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তাঁর চাহিদা ও জনপ্রিয়তা সমানভাবে অব্যাহত রয়েছে।
সাতক্ষীরার মাটি থেকে উঠে এসে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলা মোস্তাফিজ আজ শুধু একটি নাম নন, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।