
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, নদ-নদী রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির সাতক্ষীরা শাখার ১১ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সমন্বয়কারী ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কালাম সামাদ।
সভায় বক্তারা বলেন, পৃথিবীই প্রাণের একমাত্র আবাসস্থল। তাই পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে নদ-নদী রক্ষা, পরিবেশদূষণ প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে। সুন্দরবনকে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় উল্লেখ করে বক্তারা এর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, চিকিৎসক সুশান্ত কুমার ঘোষ, অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, মাধব চন্দ্র দত্ত, আলী নূর খান বাবুল; সহসভাপতি জ্যোৎস্না দত্ত, প্রবীর চন্দ্র দত্ত ও সত্যপ্রকাশ দত্ত; কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্য বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজবাবু, শেখ হারুন উর রশিদ, এসএম শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক পাল শুভাশীষ, নাজমুল হক, উম্মে ফুয়ারা, এসএম হাবিবুল হাসান, জিএম আমিনুল হক, মোস্তাকিম হোসেন, গাজী আসাদ, সালাউদ্দীন রানা, মিলন বিশ্বাস, হাবিবুর রহমান সোহাগ, মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব, মো. আব্দুর রহিম, সুধাংশু কুমার রাহা, জাহিদ হাসান, মো. ওলিউর রহমান, তানজির আহমেদ, গাজী মাহিদা মিজান, ফাহিম হাসনাত ইমন, মেহেদী হাসান (শিমুল), মো. হোসেন আলী ও সাখাওয়াতউল্যাহ।
সভায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আগামী জুন-জুলাই মাসে উপযুক্ত স্থানে প্রতিটি শাখার উদ্যোগে অন্তত ৩০০টি চারা রোপণ। এসব চারার মধ্যে ১০০টি ফলদ, ১০০টি বনজ ও ১০০টি ঔষধি গাছ থাকবে। এ কর্মসূচিতে সফল তিনটি শাখাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের ব্যক্তিগত পর্যায়েও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা হবে।
পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু বিষয়ে দুই থেকে তিন মিনিটের ভিডিওচিত্র এবং স্থিরচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। নির্বাচিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে। সদস্যদের পরিবেশবিষয়ক লেখা ও ছবি ‘প্রকৃতিবার্তা’ ম্যাগাজিনে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া শাখাগুলো নিজস্ব উদ্যোগে প্রকাশনা প্রকাশ করতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে বিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্ক, প্রাথমিক পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি মাসে নদীর তীর, পার্ক, সড়ক, বনাঞ্চল, শহীদ মিনার ও পাঠাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতিবিষয়ক বই নিয়ে নিয়মিত পাঠচক্র আয়োজন এবং স্থানীয় পর্যায়ে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও থাকবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস পালন ছাড়াও রক্তদান, চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে প্রাকৃতিক পরিবেশে ইকো ট্যুরিজমের আয়োজন করা হবে। সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে প্রতি মাসে কার্যনির্বাহী বৈঠক এবং প্রতি তিন মাস অন্তর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিগুলোর তথ্য ও দৃশ্যচিত্র কেন্দ্রীয় পর্ষদে পাঠানো হবে। বছরব্যাপী কার্যক্রমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা ১০টি ক্লাবকে ‘বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সভা শেষে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাতক্ষীরা শাখার ১১ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীন, সহসভাপতি মো. ওলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হক, অর্থ সম্পাদক মো. আসাদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. হোসেন আলী, দপ্তর সম্পাদক মাশকুরা পারভীন মৌ, নারী বিষয়ক সম্পাদক উম্মে ফুয়ারা রানী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এসএম শহীদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক এসএম সাজেদুল ইসলাম এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অর্পণ বসুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার এবং প্রকৃতিবান্ধব জীবনযাপনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে সভা শেষ হয়।