সাতক্ষীরায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক গৃহবধূ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের মৃত গোলাম রব্বানীর ছোট মেয়ে ফজিলাতুন্নেছা (পাপিয়া) এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাঁর মা জরিফা খাতুন ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হেবানামা দলিলের মাধ্যমে নিজের মালিকানাধীন জমির ৩ দশমিক ৬৩ অংশ করে দুই মেয়ে—ফজিলাতুন্নেছা (পাপিয়া) ও খায়রুন নেছা (পলি)-এর নামে দান করেন। ওই হেবানামার ভিত্তিতে তিনি নিজের অংশের জমি নামজারি করে নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন।
তবে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হেবানামার মাধ্যমে জমির অংশীদার হলেও এখন পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রাপ্য অংশের জমির দখল বুঝে পাননি। বড় বোন খায়রুন নেছা পলি তাঁকে জমিতে প্রবেশ ও ভোগদখল করতে দিচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন। জমিতে গেলে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফজিলাতুন্নেছা আরও বলেন, বড় বোনের মেয়ের জামাই, যিনি একজন সেনাসদস্য, তাঁর প্রভাব খাটিয়ে বোন, ভাগ্নি ও মাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে জমির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, বিল্ডিং সংস্কারের অনুমতি নিয়ে বর্তমানে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি গত ২৫ আগস্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি ক্রিমিনাল রিভিশন মামলা (নং-৩৬১/২৬) দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট স্থানে বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশনার পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং তাঁর প্রাপ্য সম্পত্তির দখল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের মতামত পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।