নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বিষ্ণুকাঠি এলাকায় সরকারি খাস জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের নামে দোকান নির্মাণ করে মাসিক মাত্র ১০০ টাকা চাঁদা মসজিদে দিয়ে বাকি অর্থ নিজেরা ভোগ করছেন তারা। অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—নুরুল আমিন, জহিরুল ইসলাম, আউয়াল, আসাদ ও ওসিম হাওলাদার।
এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে শরিফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তার বাবার ক্রয়কৃত পৈত্রিক সম্পত্তির সংলগ্ন সরকারি খাস জমি জোরপূর্বক দখল করে মসজিদের নামে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। পরে সেসব দোকান ভাড়া দিয়ে মাসিক আয় থেকে মাত্র ১০০ টাকা মসজিদে দিয়ে বাকি অর্থ নিজেরা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের পরিবারের ক্রয়কৃত জমির পশ্চিম পাশে একটি খাল রয়েছে এবং সেই খালের পাড় ঘেঁষেই তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা খালের পাড় দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। এতে বাধা দিলে উল্টো তাকে মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
শরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, “মসজিদের জায়গায় দোকান তুলেছি, তোর বাপের কী?” অথচ মসজিদটি ওই স্থান থেকে প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে অবস্থিত বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অবগত আছেন বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকানগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হলেও মসজিদে মাসিক মাত্র ১০০ টাকা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি জানান, জায়গাটি ক্রয়সূত্রে শাহ আলমদের মালিকানাধীন এবং তারা মসজিদে মাসিক একটি চাঁদা প্রদান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা এখানে দোকান করেছি এবং মসজিদে মাসিক চাঁদা দিই। জায়গাটি সরকারি খাস জমি, শরিফুলদের কোনো জমি সেখানে নেই। খালের পাড়ে ঘর তোলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”