নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে জননিরাপত্তা এখনো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ছালাউদ্দিন ছালু।
শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে শেখ ছালাউদ্দিন ছালু বলেন, সম্প্রতি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে আবারও একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ সময় নৌপুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “সৌভাগ্যবশত নৌপুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় যাত্রীরা আগে থেকেই বাস থেকে নেমে যাওয়ায় অন্তত ৪২ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তবে বাসচালক ও হেলপার আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
"মাত্র আড়াই মাস আগে একই ঘাটে আরেকটি বাস নদীতে পড়ে গিয়ে ২৬ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এত বড় প্রাণহানির পরও যদি ঘাটের অবকাঠামো, র্যাম, পল্টুন এবং যানবাহন ওঠানামার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন না ঘটে, তাহলে এটি দায়িত্বশীলতার চরম ব্যর্থতা।"
আলহাজ্ব শেখ ছালাউদ্দিন ছালু, তদন্ত কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো খবর পাওয়া যায় না। ফলে একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এর খেসারত দিতে হচ্ছে।
তিনি অবিলম্বে দৌলতদিয়া ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটে আধুনিক ও টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মানুষের জীবন কোনো পরীক্ষার বিষয় নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কেবল শোক প্রকাশ করা কোনো সমাধান নয়, বরং আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বারবার একই দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।”