পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন ওসমান সম্রাটের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের প্রেক্ষাপটে তিনি খোলস পাল্টে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে সম্রাট বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন এবং নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন। যদিও অতীতে তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ধাওয়া ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেন এবং এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সহায়তায় তিনি এ পদ পান। একই সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের নামে একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের নামে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সম্রাটের অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পদও লাভ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সম্রাটের পক্ষ থেকে টানানো শুভেচ্ছা পোস্টারকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে তার পোস্টারে শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের ছবি ব্যবহৃত হয়েছিল।
শুধু পোস্টারের ছবি নয়, নামেও পরিবর্তন দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি “ইয়ামিন ওসমান সম্রাট” নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে পোস্টারে নিজেকে “মো. সম্রাট সিকদার” হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
এদিকে, বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর গত ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় একটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তার এই দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও পরিচয় রূপান্তর নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. জুয়েল মৃধার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে সম্রাটের। এ বিষয়টিও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির ভেতরে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, সম্রাটের এই রাজনৈতিক রূপান্তর ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।