কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে ভয়াবহ নদীভাঙনে সন্ধ্যা নদীগর্ভে পাঁচটি মন্দির, একাধিক বসতঘর ও বৈদ্যুতিক খুঁটি বিলীন হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পুনর্বাসন ও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার সন্ধ্যা, কঁচা ও কালিগঙ্গা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাকুর গ্রামের পালপাড়া এলাকায় সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হঠাৎ তীব্র ভাঙন শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এলাকার ঐতিহ্যবাহী লোকনাথ মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, শীতলা মন্দির ও গঙ্গা মন্দিরসহ একাধিক স্থাপনা। একই সঙ্গে কয়েকটি বসতঘর ও বৈদ্যুতিক খুঁটিও নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকায় পালপাড়া ও আশপাশের এলাকার আরও ১৫ থেকে ২০টি বসতঘর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা অমল পাল ও সঞ্জীব মালো বলেন, নদীভাঙনে তারা সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সোনাকুর গ্রামের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, “সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে মন্দির ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। নদীভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা, যা সমাধানে সরকার আন্তরিক।”
তিনি আরও বলেন, “খুব দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে এখানে একটি স্থায়ী গাইড বাঁধ বা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো পরিবারকে গৃহহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার, আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মেহেদী হাসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম দুলাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।