কাউখালী প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালীতে জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কাউখালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাইসুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু লেখাপড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই। মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় পর্যায়ের এসব প্রতিযোগিতা থেকে আগামী দিনের সফল ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও ক্রীড়ানৈপুণ্য সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামীতে আমরা আরও বড় পরিসরে ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করছি।”
প্রতিযোগিতার সাফল্য ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, “সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে চারটি ইভেন্টের খেলা শেষ করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের জন্য বিশেষ গাইডলাইন প্রদান করা হবে।”
এবারের প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শাখার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দাবা, কাবাডি, হ্যান্ডবল ও সাঁতার—এই চারটি ইভেন্টে বালক ও বালিকা পৃথক বিভাগে প্রতিযোগীরা তাদের ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একাডেমি সুপারভাইজার রিয়াজুল হক, রঘুনাথপুর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো. তানভীর আহমেদ, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কিরণ চন্দ্র হালদার, সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান মিজান এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা প্রতিটি ইভেন্টের বালক ও বালিকা বিভাগের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।