প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১:০৯ পি.এম
কাউখালীতে মহিলা পরিষদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চ্যাম্পিয়ন কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়
কাউখালী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান হাসান।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার নিজস্ব কার্যালয়ে ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্তরায়’ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় উপজেলার কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রাণবন্ত বিতর্কে দুই দলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের রায়ে কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন হোগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিরণ চন্দ্র এবং কেউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুর রহমান মিজান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহিদা হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কুসুম ভট্টাচার্য, সাবেক সভাপতি জাহানুর বেগম, নেত্রী জাহানারা হাবিব, ছায়া সমাদ্দার, সবিতা ঘোষ, মাহফুজা খাতুন, প্রভাতী রানী, শিউলি কর্মকার, চায়না মজুমদার, শামীমা ও মৌমিতা সাহাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দার বলেন, সমাজ পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী অধিকার, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিঙ্গসমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তিনির্ভর বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়ক। এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দল ও শ্রেষ্ঠ বক্তার হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।