কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বেওয়ারিশ ও ক্ষ্যাপা কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১২ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। একের পর এক এমন ঘটনার ফলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক শিশু কুকুরের ভয়ে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে, ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের দল ঘোরাফেরা করছে। সুযোগ পেলেই তারা পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। গত তিন দিনে কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে রয়েছেন কেউন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বপ্না রানী, শিক্ষার্থী আকাশ হালদার, প্রদীপ, আব্দুল্লাহ, রাইসা ও মাহিরাসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে হেমায়েত উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধও রয়েছেন।
কাজী হারুন অর রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বীথিকা সাহা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশ কুকুরের কামড়ের শিকার হওয়ার পর থেকে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন একা স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে।”
অভিভাবক ফারজানা মুনমুন বলেন, “কুকুরের ভয়ে সন্তানকে একা স্কুলে পাঠানোর সাহস পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে নিজেই স্কুলে পৌঁছে দিতে হচ্ছে এবং ছুটির পর নিয়ে আসতে হচ্ছে। এতে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশু এখন স্কুলে যেতেই চাইছে না।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার জানান, গত তিন দিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী অন্তত নয়জন কুকুরে আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল্লাহ নামের এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমা সরকার বলেন, “সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে এলাকায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছি।”
এদিকে বেওয়ারিশ ও ক্ষ্যাপা কুকুরের উপদ্রব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।