কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৪২০ জন কৃষকের মাঝে নারকেল গাছের চারা, গোবর সার ও বাঁশের কঞ্চি বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিঞা, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ৪২০ জন কৃষকের মধ্যে মোট ২ হাজার ১০০টি নারকেল গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কৃষককে ৫টি করে নারকেল চারা, প্রতিটি চারার জন্য ৩০ কেজি গোবর সার এবং চারা সংরক্ষণের জন্য বাঁশের কঞ্চি প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকার কৃষির উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নারকেল চারা বিতরণের মাধ্যমে একদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের এসব চারা যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করতে হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। উন্নত জাতের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে বৃক্ষরোপণেও আরও উৎসাহিত হতে হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, “কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে মানসম্মত নারকেল চারা বিতরণ করা হয়েছে। চারাগুলোর সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গোবর সার ও বাঁশের কঞ্চিও সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে নারকেল গাছের চারা, গোবর সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।