প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৯, ২০২৬, ৪:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১২, ২০২৬, ৭:৩৭ পি.এম
ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা: এনপিপির
সাউথ বেঙ্গল নিউজ ;
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়েছে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। দলটির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, বাজেটে নির্ধারিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় এবং এর ফলে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। নির্ধারিত রাজস্ব আদায় সম্ভব না হলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে। প্রত্যাশিত পরিমাণ বিদেশি ঋণ না পাওয়া গেলে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি পাবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বেসরকারি খাতে। এতে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হবে।
এনপিপি নেতারা অভিযোগ করেন, বাজেট বক্তৃতায় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখাও বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি বলে তারা মন্তব্য করেন।
তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, এ খাতে বাড়তি বরাদ্দের ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা উপকৃত হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যে কর হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে কর ছাড়ের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত থাকলেও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই খাত বাজেটে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং কৃষি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতির প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতে আরও বেশি বরাদ্দ ও ভর্তুকি প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সারসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নেতারা কৃষি খাতে ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, রাজস্ব আয়ে পরোক্ষ কর ও ভ্যাটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
বিবৃতির শেষাংশে এনপিপির শীর্ষ নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা ও সম্প্রসারিত সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের জীবনমান, বাজারে পণ্যের মূল্য, প্রাপ্ত সেবা এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির ওপর। কারণ জনগণের সন্তুষ্টি বাজেট বক্তৃতায় নয়, বরং তার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যেই নিহিত।
Copyright © 2026 southbengalnews24. All rights reserved.