উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে গুঠিয়ার বালা বাড়ি কীর্তন আঙ্গিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অসীম কুমার দাস, সুব্রত কুমার দাস ও সুশান্ত কুমার দাস। তারা দাবি করেন, উপজেলার গুঠিয়া মৌজার এসএ ৪২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এসএ ৪০৮ নম্বর দাগের ১১ শতাংশ জমির বৈধ ওয়ারিশ ও মালিক তারা।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উজিরপুর উপজেলা শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি এবং চরমোনাই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুদ হাসান ফিরোজ স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখল করেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাদের দাবি, একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয় বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটির সদস্যরা জানান, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার উদ্যোগে বর্তমানে তারা নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন। তবে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাওয়া এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাসুদ হাসান ফিরোজ জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বা বলপ্রয়োগ বরদাশত করা হবে না।”